নখ সুস্থ রাখার করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো: কী করবেন, কী এড়িয়ে চলবেন

নখ সুস্থ রাখার করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো: কী করবেন, কী এড়িয়ে চলবেন
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

নখকে আমরা অনেক সময় শুধুই সৌন্দর্যের অংশ হিসেবে দেখি। তবে চিকিৎসকদের মতে, নখের গঠন, রং ও স্বাভাবিক বৃদ্ধি শরীরের ভেতরের বিভিন্ন সমস্যার গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে। তাই নখের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি এর অস্বাভাবিক পরিবর্তনের দিকেও নজর রাখা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, একটি সুস্থ নখ সাধারণত মসৃণ, হালকা গোলাপি এবং একরঙা হয়ে থাকে। এতে কোনো দাগ, গর্ত বা অস্বাভাবিক বাঁক থাকে না। নখ মূলত কেরাটিন নামের এক ধরনের প্রোটিন দিয়ে তৈরি, যা নখের গোড়ার অংশ থেকে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়।

তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নখে হালকা রেখা দেখা যেতে পারে, যা স্বাভাবিক। এছাড়া ছোটখাটো আঘাতের কারণে সাদা দাগ তৈরি হলেও তা সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে যায় বলে জানান চিকিৎসকেরা।

যেসব পরিবর্তনে সতর্ক হওয়া জরুরি

চিকিৎসকদের মতে, নখে হঠাৎ কিছু পরিবর্তন দেখা দিলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। যেমন-

  • নখের রং হঠাৎ পরিবর্তন হওয়া বা কালো দাগ দেখা দেওয়া
  • নখ অস্বাভাবিকভাবে মোটা বা পাতলা হয়ে যাওয়া
  • নখের আকার বদলে যাওয়া বা বাঁকা হয়ে যাওয়া
  • নখে ছোট ছোট গর্ত বা খাঁজ তৈরি হওয়া
  • নখ চামড়া থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া
  • নখের চারপাশে ব্যথা, ফোলা বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দেওয়া
  • দীর্ঘদিন নখ না বাড়া

এসব লক্ষণ অনেক সময় শরীরের ভেতরের বিভিন্ন সমস্যার ইঙ্গিত বহন করে।

কোন রোগের ইঙ্গিত হতে পারে?

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, নখের অস্বাভাবিকতা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে-

  • পুষ্টির ঘাটতি, বিশেষ করে আয়রন, জিঙ্ক ও বায়োটিনের অভাব
  • ফাঙ্গাল সংক্রমণ, যা নখ মোটা ও হলুদ করে দেয়
  • ত্বকের রোগ যেমন সোরিয়াসিস
  • দীর্ঘমেয়াদি হৃদরোগ বা ফুসফুসের সমস্যায় নখ নীলচে হয়ে যাওয়া
  • লিভার বা কিডনির সমস্যায় নখের রং পরিবর্তন

তাই এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

নখ সুস্থ রাখতে করণীয়

চিকিৎসকদের মতে, কিছু সহজ অভ্যাস অনুসরণ করলে নখ সুস্থ রাখা সম্ভব। যেমন-

  • নখ সবসময় পরিষ্কার ও শুকনো রাখা
  • পানি বা কেমিক্যালের কাজের সময় গ্লাভস ব্যবহার করা
  • নিয়মিত সঠিকভাবে নখ কাটা
  • হাতের সঙ্গে নখ ও কিউটিকলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা
  • সুষম খাদ্য গ্রহণ ও পর্যাপ্ত পানি পান করা


প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বায়োটিন সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে।

যেসব অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, কিছু অভ্যাস নখের ক্ষতি করে। যেমন-

  • নখ কামড়ানো
  • কিউটিকল টেনে তোলা বা কেটে ফেলা
  • ঝুলে থাকা নখ টেনে ছেঁড়া
  • অতিরিক্ত নেইল পলিশ রিমুভার ব্যবহার
  • সমস্যা দেখা দিলেও তা উপেক্ষা করা

সেলনে গেলে বাড়তি সতর্কতা

নখের পরিচর্যার জন্য সেলনে গেলে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে রয়েছে-

  • পরিষ্কার ও অনুমোদিত সেলন নির্বাচন
  • ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত কি না নিশ্চিত করা
  • কিউটিকল না কাটা
  • অ্যালার্জির বিষয় আগে থেকে জানানো

বিশেষজ্ঞদের মতে, নখের যত্ন শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং এটি সার্বিক স্বাস্থ্যের অংশ। নখের সামান্য পরিবর্তনও শরীরের ভেতরের বড় সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তাই নিয়মিত যত্ন ও সচেতনতা—এই দুইই নখ সুস্থ রাখার মূল চাবিকাঠি।


সম্পর্কিত নিউজ