{{ news.section.title }}
ভারত সীমান্তে এক ঘণ্টায় তিন দফা ভূমিকম্প
বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন ভারতের তিনটি অঞ্চলে সোমবার (২৯ জুন) ভোরে এক ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে তিনটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। মণিপুর, অরুণাচল প্রদেশ ও মেঘালয়ে পৃথকভাবে এসব কম্পন আঘাত হানলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ভারতের জাতীয় ভূকম্পনবিদ্যা কেন্দ্রের (এনসিএস) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টা ১৩ মিনিটে মণিপুরের কাংপোকপি এলাকায় ৩ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৫৯ কিলোমিটার গভীরে।
এর মাত্র পাঁচ মিনিট পর, ভোর ৪টা ১৮ মিনিটে অরুণাচল প্রদেশ-ভুটান সীমান্ত এলাকায় ৩ মাত্রার আরেকটি মৃদু ভূমিকম্প আঘাত হানে। এটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার গভীরে।
সবশেষ বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৫ মিনিটে মেঘালয়ের পশ্চিম খাসি পাহাড় এলাকায় ২ দশমিক ৯ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এই ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে।
পরপর তিনটি মৃদু ভূমিকম্প হলেও সংশ্লিষ্ট এলাকায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি, আহত কিংবা উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, এর আগের দিন রোববার (২৮ জুন) রাত ৯টা ৫৩ মিনিট ১৭ সেকেন্ডে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায়ও মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। অনেক বাসিন্দা কয়েক সেকেন্ডের জন্য কম্পন টের পেলেও কোথাও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘হালকা’ শ্রেণির এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা (অক্ষাংশ ২১.৫৭ ডিগ্রি উত্তর এবং দ্রাঘিমাংশ ৯২.৫৯ ডিগ্রি পূর্ব)। ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র থেকে এর দূরত্ব ছিল দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ৩৩৪ কিলোমিটার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ হওয়ায় এ ধরনের মৃদু কম্পন নিয়মিতই অনুভূত হতে পারে। তাই বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ ভবন নির্মাণ এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন তারা।