বাংলাদেশে ভারতের ভ্রমণ ভিসা চালুর খবরে মিষ্টিমুখ করেছেন কলকাতার ব্যবসায়ীরা

বাংলাদেশে ভারতের ভ্রমণ ভিসা চালুর খবরে মিষ্টিমুখ করেছেন কলকাতার ব্যবসায়ীরা
ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশে ভারতের ভ্রমণ ভিসা চালুর খবরে মিষ্টিমুখ করেছেন কলকাতার ব্যবসায়ীরা

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের ভ্রমণ ভিসা পুনরায় চালুর খবরে কলকাতার ব্যবসায়ী মহলে দেখা দিয়েছে নতুন আশার সঞ্চার। বিশেষ করে নিউ মার্কেট, মারকুইস স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ও সংলগ্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, প্রায় দুই বছরের স্থবিরতা কাটিয়ে আবারও চাঙ্গা হয়ে উঠবে কলকাতার পর্যটন ও খুচরা ব্যবসা।

২৮ জুন থেকে বাংলাদেশিদের জন্য ভ্রমণ ভিসা চালুর খবর প্রকাশের পর শনিবার (২৭ জুন) মারকুইস স্ট্রিট-ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ওয়েলফেয়ার সোসাইটির উদ্যোগে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বাংলাদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা, সেবা নিশ্চিতকরণ এবং পর্যটকবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

 

ব্যবসায়ীদের মতে, বাংলাদেশি পর্যটকরা বহু বছর ধরেই কলকাতার অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চিকিৎসা, কেনাকাটা, পর্যটন ও পারিবারিক ভ্রমণের কারণে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কলকাতায় আসতেন। কিন্তু গত দুই বছর ধরে ভ্রমণ ভিসা বন্ধ থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে।

 

আরও পড়ুন: মার্কিন মধ্যস্থতার চুক্তি মানছে না হিজবুল্লাহ, বলছে ‘আত্মসমর্পণ’

 

বিশেষ করে নিউ মার্কেট, লিন্ডসে স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এবং মারকুইস স্ট্রিট এলাকার হোটেল, রেস্তোরাঁ, পোশাকের দোকান, ওষুধের দোকান, মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান এবং পরিবহন ব্যবসা উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়ে।

 

২০২৪ সালের আগস্টের পর ভ্রমণ ভিসা কার্যক্রম সীমিত হয়ে যাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী কর্মী ছাঁটাই করতে বাধ্য হন। কেউ কেউ ব্যবসার ধরন পরিবর্তন করেন, আবার অনেক ছোট ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেন।

 

মারকুইস স্ট্রিট-ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনোতোষ সাহা বলেন, গত দুই বছর ব্যবসার জন্য অত্যন্ত কঠিন সময় ছিল। বাংলাদেশি পর্যটকদের সঙ্গে কলকাতার ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তাদের আবার স্বাগত জানাতে সবাই প্রস্তুত।

 

পরিবহন ব্যবসায়ী সঞ্জয় মজুমদার বলেন, শুধুমাত্র মেডিকেল ভিসার ওপর নির্ভর করে পুরো এলাকার অর্থনীতি সচল রাখা সম্ভব হয়নি। ফলে পরিবহন ব্যবসা থেকে শুরু করে হোটেল খাত পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন তারা।

 

নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাদের উদ্যোগে এলাকার প্রায় ৩৬টি সিসিটিভি ক্যামেরা পরীক্ষা ও সচল করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, অতীতে বাংলাদেশি পর্যটকদের হারানো ব্যাগ, পাসপোর্ট বা অন্যান্য সমস্যার সমাধানে এসব ক্যামেরার ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

 

নিউ মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী কামরুদ্দিন মালিক জানান, গত দুই বছরে তাদের ব্যবসা প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গিয়েছিল। অনেক ব্যবসায়ী এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি আশা করছেন, ভ্রমণ ভিসা চালু হলে নিউ মার্কেট আবারও আগের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাবে।

 

ফার্মেসি ও কসমেটিকস ব্যবসায়ীরাও নতুন করে আশাবাদী। তাদের মতে, বাংলাদেশি পর্যটকদের একটি বড় অংশ কলকাতা থেকে ওষুধ, প্রসাধনী এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে থাকেন। ফলে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে এসব খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।


সম্পর্কিত নিউজ