{{ news.section.title }}
ভয় পাবেন না, আমরা বাঘের বাচ্চার মতো লড়ব, ভোট গণনার মধ্যে মমতার বার্তা
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার মধ্যে দলীয় কর্মী, প্রার্থী ও গণনা এজেন্টদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাথমিক প্রবণতায় বিজেপি বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও তিনি দলীয় কর্মীদের গণনাকেন্দ্র না ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার ভাষায়, ভয় পাওয়ার কিছু নেই, তৃণমূল শেষ পর্যন্ত লড়বে।
সোমবার, ৪ মে ভোট গণনা চলাকালে এক ভিডিও বিবৃতিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ফলাফল দেখানোর অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, প্রথম দুই থেকে তিন রাউন্ডে বিজেপির ফল আগে দেখানো হবে, এমন আশঙ্কা তিনি আগেই করেছিলেন। তাই গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে কেন্দ্র ছাড়তে নিষেধ করেন তিনি।
প্রাথমিক প্রবণতা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজেপি ১৯০টি আসনে এগিয়ে আছে, আর তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে আছে ৯৯টি আসনে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় মোট আসন ২৯৪টি। তবে গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা যাবে না।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ঐতিহাসিক অগ্রগতির পথে রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। বিজেপি কখনো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করেনি। তাই এই প্রবণতা রাজ্যের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তিনি সমস্ত গণনা এজেন্ট ও প্রার্থীদের অনুরোধ করছেন, কেউ যেন গণনা এলাকা ছেড়ে না যান। তার অভিযোগ, বিজেপি পরিকল্পনা করেই প্রথম দিকে নিজেদের ফলাফল সামনে আনছে। তিনি বলেন, এখনও অনেক রাউন্ড গণনা বাকি আছে, তাই হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই।
মমতার অভিযোগ, বেশ কিছু জায়গায় দুই থেকে তিন রাউন্ডের পর গণনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, কল্যাণীতে সাতটি মেশিন পাওয়া গেছে, যেগুলোর কোনো মিল ছিল না। তার ভাষায়, কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করে তৃণমূলকে দমন করার চেষ্টা হচ্ছে, অফিস ভাঙা হচ্ছে এবং জোর করে দখল নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
তৃণমূল নেত্রীর বক্তব্যে ভোটার তালিকা সংশোধন বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন, এসআইআর প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি আগে থেকেই এই প্রক্রিয়ার কড়া সমালোচক ছিলেন। তার অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে বহু ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ৮৯ লাখ ভোটার, যা রাজ্যের মোট ভোটারের প্রায় ১১ দশমিক ৬ শতাংশ, তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।
মমতা দাবি করেন, যেসব আসন তৃণমূলের জেতার সম্ভাবনা ছিল, সেগুলোতে এসআইআর-এর নামে ভোট লুট হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মিলে নিজেদের মতো করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিজেপি বা নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশে মমতা বলেন, কেউ যেন হতাশ না হন। তার দাবি, মাত্র তিন থেকে চার রাউন্ড গণনা হয়েছে, এখনও ১৪ থেকে ১৮ রাউন্ড বাকি আছে। তিনি বলেন, সূর্যাস্তের পর ফল ঘুরে যেতে পারে, তাই সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে।
ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। ভয় পাবেন না। আমরা বাঘশাবকের মতো লড়ব।” রাজনৈতিকভাবে কঠিন মুহূর্তে এই বার্তা তৃণমূল কর্মীদের মনোবল ধরে রাখার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচন শুধু রাজ্য রাজনীতির জন্য নয়, ভারতের জাতীয় রাজনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অন্যতম কড়া সমালোচক এবং বিরোধী রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মুখ। ফলে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বড় সাফল্য হলে তা বিরোধী জোটের জন্যও বড় ধাক্কা হতে পারে।
এখন সবার নজর চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে। প্রাথমিক প্রবণতা বিজেপির পক্ষে থাকলেও তৃণমূল এখনো গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই ছাড়তে নারাজ। মমতার বার্তা স্পষ্ট, ফল ঘোষণার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দলীয় কর্মীদের মাঠে থাকতে হবে।