সীমান্ত এলাকায় ভারতের উচ্ছেদ অভিযান, পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার শঙ্কা

সীমান্ত এলাকায় ভারতের উচ্ছেদ অভিযান, পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার শঙ্কা
ছবির ক্যাপশান, সংগৃহীত
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

পাকিস্তান সীমান্তঘেঁষা এলাকায় অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে ভারত। আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্য থেকে ১৫ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে গড়ে ওঠা অনুমোদনহীন স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, অনুপ্রবেশ, মাদক চোরাচালান, দখলদারি, সন্ত্রাসে অর্থায়ন ও আন্তসীমান্ত অপরাধ ঠেকানোর অংশ হিসেবে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজস্থানের বিকানেরে সীমান্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন অমিত শাহ। বৈঠকে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা, রাজ্য সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, সীমান্তবর্তী পাঁচ জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকেই সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়।

 

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ০ থেকে ১৫ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে যেসব অননুমোদিত স্থাপনা গড়ে উঠেছে, সেগুলো চিহ্নিত করে ভেঙে ফেলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর করতে প্রশাসন, সীমান্তরক্ষী বাহিনী, স্থানীয় জনগণ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বয়ে শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে।

 

ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, পাকিস্তান সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ, মাদক পাচার, অস্ত্র চোরাচালান, জাল নথি ব্যবহার, অবৈধ অর্থ লেনদেন এবং সন্ত্রাসে অর্থায়নের মতো কার্যক্রমের ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ব্যাংক লেনদেনের বৈধতা যাচাই, বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অর্থের উৎস পরীক্ষা, ভুয়া কোম্পানি ও মিউল অ্যাকাউন্ট শনাক্ত, জাল আধার কার্ড চিহ্নিত করা এবং চোরাচালান বন্ধে কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

বৈঠকে প্রতিটি সীমান্ত জেলায় পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা বলয় তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সীমান্ত অপরাধের উৎস, ধরণ ও নেটওয়ার্ক নিয়ে গভীরভাবে অনুসন্ধান করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান বের করার কথাও বলা হয়েছে। দুই মাস পর এসব পদক্ষেপের অগ্রগতি আবার পর্যালোচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

 

এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যখন ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। গত বছর ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও অবনতি হয়। ভারত ওই হামলার জন্য পাকিস্তানভিত্তিক গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছিল, যদিও ইসলামাবাদ তা অস্বীকার করে। এরপর পাল্টাপাল্টি কূটনৈতিক পদক্ষেপ, আকাশপথ বন্ধ, সীমান্তে গোলাবর্ষণ ও সামরিক উত্তেজনার ঘটনা ঘটে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্তকে ভারত নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবে দেখালেও এর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব থাকতে পারে। বিশেষ করে পাকিস্তান সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বসতি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

 

ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত প্রায় ৩ হাজার ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ। এর মধ্যে বিতর্কিত কাশ্মীর অঞ্চলও রয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোর একটি। দুই পক্ষই দীর্ঘদিন ধরে একে অপরের বিরুদ্ধে সীমান্তের ওপারে সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সহায়তার অভিযোগ তুলে আসছে, যদিও উভয় দেশই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে।

 

সব মিলিয়ে ভারতের নতুন নির্দেশ সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হলেও এটি ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে নতুন অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। এখন নজর থাকবে উচ্ছেদ অভিযান কীভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং পাকিস্তান এ বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া জানায়।


সম্পর্কিত নিউজ