যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ঘিরে ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণের বাজার

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ঘিরে ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণের বাজার
ছবির ক্যাপশান, ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে মঙ্গলবার আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে স্বর্ণের দাম। মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলন কমে আসা, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে বিনিয়োগকারীদের।

মঙ্গলবার জিএমটি সকাল ৭টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৫৩২ দশমিক ৭৪ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৫৬২ দশমিক ৯০ ডলারে লেনদেন হয়।

 

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলন কমে যাওয়ায় সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ আবারও বেড়েছে। সাধারণত বন্ডের ফলন কমলে বিনিয়োগকারীরা বিকল্প নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়েন।

 

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও স্বর্ণবাজারে বড় প্রভাব ফেলছে। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলের মধ্যে আংশিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও অঞ্চলটিতে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। সীমান্তে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানে রেখেছে।

 

বাজারের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার দিকে। আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান থেকে পরস্পরবিরোধী বার্তা আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনায় অগ্রগতি হলে স্বর্ণের দাম কিছুটা চাপের মুখে পড়তে পারে। তবে নতুন কোনো উত্তেজনা সৃষ্টি হলে নিরাপদ আশ্রয়ের সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা আরও বাড়তে পারে।

 

অন্যদিকে মার্কিন ডলারের সূচক সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা দুর্বল হওয়াও স্বর্ণের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ ডলারের মূল্য কমে গেলে অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক সস্তা হয়ে যায়, ফলে চাহিদা বৃদ্ধি পায়।

 

বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংকও গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে স্বর্ণের মজুত বাড়িয়ে চলেছে। বিশেষ করে চীন, ভারত, তুরস্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রিজার্ভ বৈচিত্র্যময় করতে স্বর্ণ ক্রয় বাড়িয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

 

বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি এখন যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন কর্মসংস্থান প্রতিবেদন, বেকারত্বের হার এবং ফেডারেল রিজার্ভ কর্মকর্তাদের বক্তব্যের দিকে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে আগামী মাসগুলোতে সুদের হার কমানো হবে কি না, সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যাবে। ফেড সুদের হার কমানোর পথে এগোলে স্বর্ণের দাম আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

এছাড়া বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ, বিভিন্ন অঞ্চলে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কাও স্বর্ণের বাজারকে সমর্থন দিচ্ছে। ফলে সামনের দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

 

তথ্যসূত্র: রয়টার্স


সম্পর্কিত নিউজ