{{ news.section.title }}
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে রাজি হিজবুল্লাহ
মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক মাস ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্যে নতুন এক কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দেওয়া একটি প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে বলে জানিয়েছে লেবানন সরকার। এর বিনিময়ে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে তেল আবিব।
লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ও ওয়াশিংটনে দেশটির দূতাবাসের বরাত দিয়ে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের মধ্যে আলোচনা শেষে হিজবুল্লাহকে দেওয়া প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে চুক্তি অনুযায়ী বৈরুতের দক্ষিণ উপশহর দাহিয়ায় ইসরায়েলি হামলা বন্ধ থাকবে এবং একই সময়ে হিজবুল্লাহও ইসরায়েলের ভূখণ্ডে নতুন করে রকেট বা ড্রোন হামলা চালাবে না। পরবর্তীতে এই সমঝোতা পুরো লেবাননজুড়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
হিজবুল্লাহ-ঘনিষ্ঠ লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরির উপদেষ্টা আলি হামদান জানিয়েছেন, সংগঠনটি কেবল আংশিক নয়, বরং পুরো লেবাননজুড়ে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হাসান ফাদলাল্লাহও বলেছেন, ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সরে গেলে এবং হামলা বন্ধ করলে তারা একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন করবে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি সরাসরি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, উভয় পক্ষই গোলাগুলি বন্ধে সম্মত হয়েছে এবং বৈরুতে নতুন কোনো বড় সামরিক অভিযান চালানো হবে না।
তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি। সমঝোতার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উত্তেজনার খবর পাওয়া যায়। হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা উত্তর ইসরায়েলে অবস্থানরত ট্যাংক ও সেনা লক্ষ্য করে ড্রোন এবং গোলাবর্ষণ করেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, লেবানন থেকে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হিজবুল্লাহ যদি আবার ইসরায়েলের শহর, বসতি বা নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তাহলে বৈরুতের ওপর নতুন করে আঘাত হানতে দ্বিধা করবে না ইসরায়েল। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান আপাতত বন্ধ হচ্ছে না এবং নিরাপত্তার স্বার্থে সেনা মোতায়েন অব্যাহত থাকবে।
সম্প্রতি ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিউফোর্ট দুর্গ ও আশপাশের কয়েকটি উচ্চভূমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। ইসরায়েল দাবি করছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতেই তাদের অভিযান চলছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ থেকে শুরু হওয়া নতুন দফার সংঘাতে দেশটিতে ৩ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বৈরুত ও দক্ষিণ লেবাননের বহু এলাকা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। অপরদিকে ইসরায়েলও সেনা ও বেসামরিক হতাহতের তথ্য জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা এবং যুদ্ধবিরতি ধরে রাখার স্বার্থেই লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চলছে। তেহরান ইতোমধ্যে সতর্ক করে দিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে বৃহত্তর আঞ্চলিক সমঝোতা এবং যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টা ভেস্তে যেতে পারে।
তবে সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, উভয় পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস এখনো গভীর। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন শান্তির পথ খুলে দিতে পারে ঠিকই, কিন্তু সামান্য উসকানিতেই পরিস্থিতি আবারও পূর্ণমাত্রার সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স