{{ news.section.title }}
বিশ্বকাপ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে আর্জেন্টিনার বিশেষ বিমান
ফিফা বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল। দীর্ঘ প্রায় ১১ ঘণ্টার বিমানযাত্রা শেষে রোববার স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে মিসৌরির কানসাস সিটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে আর্জেন্টিনা দলের চার্টার বিমান।
বুয়েন্স আয়ার্সের এজেইজা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে আর্জেন্টিনা দল প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মাইল পথ অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায়। বিশ্বকাপের আমেজ যেন আগমনের মুহূর্ত থেকেই ছড়িয়ে পড়ে কারণ দলকে বহনকারী বিমানটিও সাজানো হয়েছিল বিশেষভাবে।
আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের বছরকে স্মরণীয় করে রাখতে ফ্লাইটটির নম্বর রাখা হয় ১৯৭৮। ওই বছর ঘরের মাঠে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছিল আলবিসেলেস্তেরা। সেই ঐতিহাসিক সাফল্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই বিশেষ ফ্লাইট নম্বর ব্যবহার করা হয়।
দলকে বহনকারী এয়ারবাস এ৩৩০ বিমানটি আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী নীল-সাদা রঙে সাজানো ছিল। বিমানের লেজে স্থান পেয়েছিল অধিনায়ক লিওনেল মেসির বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সির প্রতীক। পাশাপাশি তিনটি সোনালি তারকা দিয়ে দেখানো হয়েছে আর্জেন্টিনার তিনটি বিশ্বকাপ শিরোপা ১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২ সালের গৌরবময় অর্জন।
কানসাস সিটিকে বিশ্বকাপের বেস ক্যাম্প হিসেবে বেছে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। শহরটিতে অবস্থান করে নিজেদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি এগিয়ে নেবে লিওনেল স্কালোনির দল। আর্জেন্টিনার পাশাপাশি নেদারল্যান্ডস, ইংল্যান্ড ও আলজেরিয়াও পরবর্তী সময়ে কানসাস সিটিতে বেস ক্যাম্প স্থাপন করবে বলে জানা গেছে।
আর্জেন্টিনা দল অনুশীলন করবে স্পোর্টিং কানসাস সিটির কম্পাস মিনারেলস ন্যাশনাল পারফরম্যান্স সেন্টারে। আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন এই ট্রেনিং সেন্টারকে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য উপযুক্ত মনে করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন। দলটির থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে কানসাস সিটির অরিজিন হোটেলে।
বিমানবন্দরে আর্জেন্টিনা দলকে স্বাগত জানাতে স্থানীয় সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক আর্জেন্টাইন প্রবাসী ও ফুটবলপ্রেমী পতাকা, জার্সি ও ব্যানার নিয়ে বিমানবন্দরের আশপাশে জড়ো হন। মেসি ও আর্জেন্টিনাকে ঘিরে কানসাস সিটিতে এখন থেকেই বিশ্বকাপের উন্মাদনা তৈরি হয়েছে।
স্কোয়াডের বেশিরভাগ সদস্য চার্টার ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছালেও কয়েকজন ফুটবলার ক্লাবের দায়িত্ব শেষে পরে দলে যোগ দেবেন। বিমানবন্দর থেকে নেমে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা নির্ধারিত বাসে করে হোটেলের উদ্দেশে রওনা হন। প্রথম দিন হালকা শরীরচর্চা ও বিশ্রামের মধ্য দিয়ে সময় কাটানোর কথা রয়েছে। পুরো দল একত্রিত হওয়ার পর পুরোদমে অনুশীলন শুরু হবে।
বিশ্বকাপের মূল লড়াই শুরুর আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। ৬ জুন টেক্সাসে হন্ডুরাসের বিপক্ষে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নামবে তারা। এরপর ৯ জুন আইসল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এই দুই ম্যাচে দলীয় সমন্বয়, ফিটনেস এবং সম্ভাব্য একাদশ যাচাই করার সুযোগ পাবেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে। এরপর গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের মুখোমুখি হবে মেসির দল। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে এবারও বড় প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তৃতীয় বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা। এবার সেই শিরোপা ধরে রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ ঘিরেও সমর্থকদের আগ্রহ তুঙ্গে।
সব মিলিয়ে বিশেষ বিমান, ১৯৭৮ নম্বর ফ্লাইট, মেসির ১০ নম্বর প্রতীক এবং তিন তারকার উপস্থিতি সবকিছু মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আর্জেন্টিনার আগমন যেন বিশ্বকাপ উৎসবের আনুষ্ঠানিক আবহ তৈরি করল।