পদত্যাগের গুঞ্জনে ইরানের প্রেসিডেন্ট, মুখ খুলল তেহরান

পদত্যাগের গুঞ্জনে ইরানের প্রেসিডেন্ট, মুখ খুলল তেহরান
ছবির ক্যাপশান, পদত্যাগের গুঞ্জনে ইরানের প্রেসিডেন্ট, মুখ খুলল তেহরান
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পদত্যাগ নিয়ে নতুন করে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে তেহরান এই দাবি সরাসরি নাকচ করেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের খবর সত্য নয়; এটি বিদেশি গণমাধ্যমের তৈরি “মিডিয়া গেম”।

রোববার কয়েকটি বিদেশি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ে পাঠানো চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে প্রেসিডেন্ট ও সরকারকে কার্যত বাইরে রাখা হয়েছে।

 

প্রতিবেদনগুলোতে আরও দাবি করা হয়, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির কট্টরপন্থি অংশ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা সিদ্ধান্তের ওপর ক্রমশ নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে। এর ফলে প্রেসিডেন্টের প্রশাসন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অচলাবস্থায় পড়েছে বলেও দাবি করা হয়।

 

তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় এই খবর অস্বীকার করেছে। প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের যোগাযোগবিষয়ক উপপ্রধান মেহদি তাবাতাবায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় বলেন, কিছু বিদেশি গণমাধ্যমের “মিডিয়া গেম”-এর ধারাবাহিকতাতেই এমন খবর ছড়ানো হচ্ছে। তিনি অভ্যন্তরীণ বিভক্তি নিয়ে চলমান জল্পনাও প্রত্যাখ্যান করেন।

 

মেহদি তাবাতাবায়ি বলেন, ইরানের জাতীয় ঐক্য দুর্বল করার চেষ্টা সফল হবে না। তার ভাষায়, যারা ইরানের ঐক্য ও সংহতি ভাঙতে চায়, তাদের সেই ইচ্ছা কখনো পূরণ হবে না। তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান কখনোই ইরানের জনগণের সেবা থেকে সরে দাঁড়াবেন না।

 

পদত্যাগের গুঞ্জন এমন সময় ছড়াল, যখন ইরানে সরকার, সামরিক-নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এবং কট্টরপন্থি রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপড়েনের প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্টের ভূমিকা নিয়ে বিদেশি গণমাধ্যমে নানা বিশ্লেষণ প্রকাশিত হচ্ছে।

 

মার্কিন প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা আগেই দাবি করেছিলেন, ইরানের বেসামরিক সরকার ও সামরিক-নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে মতপার্থক্য বাড়ছে। পশ্চিমা কিছু গণমাধ্যমেও দাবি করা হয়েছে, আইআরজিসি ধীরে ধীরে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে প্রভাব বাড়িয়েছে। তবে তেহরান এসব দাবি রাজনৈতিক প্রচারণা হিসেবে দেখছে।

 

ইরানের সরকারপন্থি মহলের বক্তব্য, দেশের বিরুদ্ধে সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়ার সময় বিদেশি গণমাধ্যম ইচ্ছাকৃতভাবে বিভক্তির খবর ছড়াচ্ছে। তাদের মতে, এসব খবরের উদ্দেশ্য হলো ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করা এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো।

 

অন্যদিকে বিশ্লেষকদের মতে, পদত্যাগের দাবি সত্য হোক বা না হোক, এমন গুঞ্জন ইরানের ক্ষমতার ভেতরের টানাপড়েন নিয়ে আন্তর্জাতিক আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে। কারণ প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তুলনামূলকভাবে বাস্তববাদী রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত হলেও, নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ইরানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা বড়।

 

ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ সত্য হলে তা দেশটির ক্ষমতার সর্বোচ্চ স্তরে বড় ধরনের সংকটের ইঙ্গিত দিত। তবে তেহরানের আনুষ্ঠানিক অস্বীকারের পর আপাতত বিষয়টি গুঞ্জন হিসেবেই রয়ে গেছে।

 

সব মিলিয়ে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পদত্যাগ নিয়ে ছড়ানো খবর ঘিরে ইরানের রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট প্রেসিডেন্ট দায়িত্বে আছেন, পদত্যাগের দাবি সত্য নয় এবং ইরান ঐক্য ও সংহতির পথ থেকে সরে আসবে না।

 

তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


সম্পর্কিত নিউজ