হরমুজে নৌ-চলাচলে কড়াকড়ি, সতর্কবার্তা দিল ইরান

হরমুজে নৌ-চলাচলে কড়াকড়ি, সতর্কবার্তা দিল ইরান
ছবির ক্যাপশান, হরমুজে নৌ-চলাচলে কড়াকড়ি, সতর্কবার্তা দিল ইরান

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে কড়াকড়ি আরও বাড়িয়েছে ইরান। বাণিজ্যিক জাহাজ, তেলবাহী ট্যাংকার ও অন্যান্য নৌযানের জন্য নতুন সতর্কবার্তা জারি করে দেশটি জানিয়েছে, এই প্রণালির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ইরানি সামরিক কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব বাণিজ্যিক জাহাজকে নির্ধারিত নৌপথ অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে যাত্রা শুরুর আগে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় ও অনুমোদন নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট জাহাজ নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে তেহরান।

 

ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রণালির ব্যবস্থাপনা বা সামুদ্রিক চলাচলে কোনো বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেবে না। এমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে তার দৃঢ় ও উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তেহরানের দাবি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের বাহিনী সরাসরি নজরদারি চালাচ্ছে এবং নিয়ম ভঙ্গের চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনী জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টায় ২৬টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এসব জাহাজের মধ্যে তেলবাহী ট্যাংকার, কনটেইনারবাহী জাহাজ ও অন্যান্য বাণিজ্যিক নৌযান ছিল। একই সঙ্গে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কিছু জাহাজ অনুমোদন ছাড়াই প্রণালিতে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল এবং নৌচলাচল শনাক্তকারী ব্যবস্থা বন্ধ বা পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিল।

 

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডরগুলোর একটি। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের বড় অংশ এই পথ দিয়ে যায়। ফলে এখানে যেকোনো উত্তেজনা সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

 

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা, ইসরায়েলকে ঘিরে আঞ্চলিক সংঘাত এবং উপসাগরীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে নৌ উপস্থিতি বজায় রাখার কথা বললেও ইরান বলছে, প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা আঞ্চলিক পক্ষগুলোর হাতে থাকা উচিত।

 

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন কড়াকড়ি শুধু সামরিক বার্তা নয়, বরং কূটনৈতিক চাপ তৈরির কৌশলও হতে পারে। কারণ এই নৌপথে চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে জ্বালানি আমদানিনির্ভর বহু দেশ সরাসরি প্রভাবিত হবে। বিশেষ করে এশিয়ার বড় অর্থনীতিগুলো মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

 

নৌপরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনিশ্চিত হলে জাহাজ পরিচালনা ব্যয়, বীমা খরচ এবং সরবরাহ সময় বেড়ে যেতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যের দাম আরও অস্থির হতে পারে। ইতোমধ্যে অনেক জাহাজ কোম্পানি ঝুঁকি বিবেচনায় চলাচল পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছে।

 

ইরানের সতর্কবার্তার পর পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নজরদারি বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামান্য ভুল হিসাবও বড় আঞ্চলিক উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে। তাই সামরিক কড়াকড়ির পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানই এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার সবচেয়ে কার্যকর পথ।


সম্পর্কিত নিউজ