ইসরায়েল ইতিহাস মুছে দিচ্ছে: লেবাননের প্রধানমন্ত্রী

ইসরায়েল ইতিহাস মুছে দিচ্ছে: লেবাননের প্রধানমন্ত্রী
ছবির ক্যাপশান, লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল শুধু লেবাননের ভূখণ্ডে সামরিক আগ্রাসন চালাচ্ছে না; বরং দেশটির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মানুষের অস্তিত্বকেও মুছে ফেলার চেষ্টা করছে। ইসরায়েলের চলমান হামলা ও দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নওয়াফ সালাম বলেন, ইসরায়েল সীমানা বিস্তার করেই থেমে থাকছে না। তারা কোনো নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করছে না; বরং সম্পূর্ণ ধ্বংসের নীতি অনুসরণ করছে। তাঁর ভাষায়, ইসরায়েল যা করছে, তা কেবল লেবাননের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন নয়, এটি ইতিহাস মুছে ফেলার একটি চেষ্টা।

 

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের স্থল আগ্রাসন ও হামলার কারণে বহু মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। অনেক গ্রাম প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে। পরিবারগুলো নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দেশের ভেতরেই বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিকে তিনি শুধু একটি সামরিক সংকট নয়, বরং মানবিক ও জাতীয় সংকট হিসেবেও উল্লেখ করেন।

 

বাস্তুচ্যুত মানুষদের উদ্দেশে নওয়াফ সালাম বলেন, আপনাদের কষ্ট পুরো লেবাননের কষ্ট। তিনি আশ্বাস দেন, যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা, বন্দীদের প্রত্যাবর্তন এবং বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসনে লেবানন রাষ্ট্র কোনো প্রচেষ্টা বাকি রাখবে না। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পুনর্গঠন ও মানুষের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করাও সরকারের অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি।

 

চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা প্রসঙ্গে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ ও শান্তির সিদ্ধান্ত জাতীয় সিদ্ধান্ত হিসেবেই থাকবে। তিনি ইঙ্গিত দেন, কোনো একক পক্ষ বা গোষ্ঠীর সিদ্ধান্তে লেবাননের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে না। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, জনগণের নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

নওয়াফ সালাম আরও বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি অর্জনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, বর্তমান সংঘাত অব্যাহত থাকলে শুধু সীমান্ত এলাকা নয়, পুরো লেবাননের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা ও কূটনৈতিক চাপ এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

 

দক্ষিণ লেবাননে সাম্প্রতিক হামলায় বসতি, অবকাঠামো ও ঐতিহাসিক স্থাপনার আশপাশের এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে শুধু ঘরবাড়ি নয়, লেবাননের বহু প্রাচীন সাংস্কৃতিক স্মৃতিচিহ্নও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

 

ইসরায়েলের দাবি, তাদের অভিযান নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলার অংশ। তবে লেবাননের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, হামলার পরিধি ও ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা নিরাপত্তা অভিযানের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। বেসামরিক মানুষের ঘরবাড়ি, জীবিকা, গ্রাম ও ঐতিহাসিক পরিচয় ধ্বংস হওয়ায় এই সংঘাত লেবাননের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত তৈরি করছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে চলমান উত্তেজনা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতি দুর্বল হয়ে পড়লে নতুন করে বড় মাত্রার সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হবে। এতে শুধু লেবানন নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।

 

সব মিলিয়ে নওয়াফ সালামের বক্তব্যে লেবাননের বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। দেশটি যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমাধান চাইলেও সার্বভৌমত্ব, জনগণের নিরাপত্তা এবং ইতিহাস-ঐতিহ্য রক্ষার প্রশ্নে আপস করতে চায় না।


সম্পর্কিত নিউজ