ইরানে একাধিক হামলায় ইসরায়েলের পাশে ছিল আমিরাত: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

ইরানে একাধিক হামলায় ইসরায়েলের পাশে ছিল আমিরাত: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
ছবির ক্যাপশান, ইরানে একাধিক হামলায় ইসরায়েলের পাশে ছিল আমিরাত: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত এমন চাঞ্চল্যকর দাবি উঠেছে এক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধ চলাকালে এবং যুদ্ধবিরতির সময়েও ইরানের ভেতরে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায় আবুধাবি। এতে বোঝা যায়, সংঘাতে আমিরাতের সম্পৃক্ততা আগে যতটা প্রকাশ্যে এসেছিল, বাস্তবে তা আরও গভীর হতে পারে।

সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের শুরুর দিক থেকেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা শুরু হয়। পরে এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও কিছু অভিযান অব্যাহত ছিল। এসব হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সমন্বয় এবং ইসরায়েলের গোয়েন্দা সহায়তা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল কেশম ও আবু মুসা দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, লাভান দ্বীপের তেল শোধনাগার এবং আসালুয়েহ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স। এসব স্থাপনা ইরানের জ্বালানি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত। হামলার ফলে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

 

তবে আমিরাতের এই ভূমিকা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো প্রকাশ্যে বিষয়টি নিশ্চিত না করলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতের সময় আমিরাত কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে ছিল না; বরং নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করে ইরানের ভেতরে পাল্টা হামলাও চালায়।

 

ইরানও পাল্টা জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আবুধাবি ও আশপাশের শহর, বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা এবং কৌশলগত অবকাঠামো ছিল এসব হামলার লক্ষ্য। প্রতিবেদনের দাবি, আমিরাতকে লক্ষ্য করে প্রায় ২ হাজার ৮০০ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়, যা সংঘাতের মাত্রা কতটা বিস্তৃত হয়েছিল তা স্পষ্ট করে।

 

এই সংঘাতে আমিরাতের অর্থনীতিও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ে। বিমান চলাচল ব্যাহত হয়, পর্যটন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং শেয়ারবাজারে বড় অঙ্কের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়। জ্বালানি স্থাপনা ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়ায় আঞ্চলিক বাজারেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আমিরাতের সামরিক পদক্ষেপ উপসাগরীয় রাজনীতিতেও নতুন বিভাজন তৈরি করে। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। কিছু পক্ষ মনে করে, ইরানের ভেতরে হামলা চালানো পুরো অঞ্চলে আরও বড় সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

 

পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে আমিরাত পরে কূটনৈতিক সমাধানের দিকেও ঝুঁকে পড়ে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়ায় আবুধাবি। তবে অন্যদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা সত্য হলে তা উপসাগরীয় নিরাপত্তা কাঠামোতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। কারণ এতদিন আমিরাতকে সাধারণত কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখা হলেও, এই প্রতিবেদনে তাকে সরাসরি সামরিক ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে ইরান-আমিরাত সম্পর্ক আরও জটিল হতে পারে।

 

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর ঘিরে এমন সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। তাই এ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম, সরবরাহব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় প্রভাব পড়তে পারে।

 

তথ্যসূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল


সম্পর্কিত নিউজ