ইরান চুক্তি নিয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানাবেন ট্রাম্প

ইরান চুক্তি নিয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানাবেন ট্রাম্প
ছবির ক্যাপশান, ইরান চুক্তি নিয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানাবেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে প্রস্তাবিত চুক্তি নিয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে শীর্ষ সহযোগীদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পরও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সুরক্ষিত না হলে কোনো চুক্তিতে সম্মত হবেন না ট্রাম্প।

প্রস্তাবিত চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত প্রশমিত করা এবং বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো। এতে দুই দেশের আলোচকেরা স্থায়ী সমাধানের পথে এগোনোর জন্য অতিরিক্ত সময় পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে চুক্তির খসড়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

 

হোয়াইট হাউসের নিরাপদ বৈঠককক্ষ সিচুয়েশন রুমে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী হয়। বৈঠকের আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি প্রস্তাবিত চুক্তি নিয়ে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নিতে যাচ্ছেন। কিন্তু বৈঠকের পর তিনি সিদ্ধান্তের বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি। মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট কেবল এমন চুক্তিতেই সম্মত হবেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো এবং তাঁর নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে পারবে না। ওয়াশিংটন আরও চাইছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে নৌযান চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করা হোক। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে।

 

ইরানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দুই পক্ষ চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছালেও এখনো তা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন পায়নি। তেহরানের দাবি, সম্ভাব্য এই সমঝোতায় পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত নয়। ইরানের অবস্থান হলো, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক পক্ষগুলোর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া উচিত।

 

ইরানি সূত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি জাহাজের ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার করে, তাহলে তেহরানের শর্ত অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের জব্দ থাকা বিপুল অঙ্কের সম্পদ মুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থ লেনদেন হবে না।

 

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, অবরোধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হলেও তা এক ধাপে নয়, বরং ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে। এতে বোঝা যাচ্ছে, ওয়াশিংটন এখনো পুরো প্রক্রিয়াটি সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে নিতে চাইছে।

 

সম্ভাব্য চুক্তির খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে এবং শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ কমতে পারে। তবে চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তা কাটছে না।

 

নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমানো ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে ইরানের প্রতি কোনো ছাড় দিলে নিজ দলের কট্টর ইরানবিরোধী অংশের সমালোচনার মুখে পড়তে পারেন ট্রাম্প। ফলে প্রস্তাবিত চুক্তি নিয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত কেবল কূটনৈতিক নয়, রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানকে ঘিরে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এই সংঘাতে ইরান ও লেবাননে বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও দামে বড় প্রভাব ফেলেছে। এখন ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে, এই উত্তেজনা সাময়িকভাবে প্রশমিত হবে, নাকি নতুন করে অচলাবস্থা তৈরি হবে।


সম্পর্কিত নিউজ