{{ news.section.title }}
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় বাংলাদেশি পরিবারের ৪ সদস্য আহত
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় একই পরিবারের চার বাংলাদেশি গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দেশটির নাবাতিয়ে জেলার জিবশিত এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে তাদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পরিবারের চার সদস্য গুরুতর আহত হন। হামলার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীরা তাঁদের দ্রুত দক্ষিণ লেবাননের শেখ রাগেব হারব হাসপাতালে নিয়ে যান।
আহতরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার শাহপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে মোহাম্মদ মমিন মিয়া, তাঁর স্ত্রী নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার গাংকুল কান্দি গ্রামের খোরশেদ উদ্দিনের মেয়ে জিনা আক্তার এবং তাঁদের দুই সন্তান। চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, জিনা আক্তারের অবস্থা গুরুতর। তাঁর একটি পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য আহতদের সাইদায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, আহতদের চিকিৎসা ও সার্বিক অবস্থার বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে দূতাবাস সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা তীব্র হয়েছে। নাবাতিয়ে, টাইর, সাইদা ও আশপাশের এলাকায় বিমান ও ড্রোন হামলায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিনভর দক্ষিণ লেবাননে হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত ও ৫৮ জন আহত হয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও সেনাসদস্যও রয়েছেন।
ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি এলাকায় নতুন করে স্থানত্যাগের নির্দেশ জারি করেছে। ফলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ এবং প্রবাসীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরবাড়ি ছাড়ছেন।
দক্ষিণ লেবাননে বাংলাদেশি প্রবাসীদের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও ড্রোন হামলার কারণে তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে যেসব বাংলাদেশি পরিবারসহ সীমান্তবর্তী বা সংঘাতপ্রবণ এলাকায় থাকেন, তাঁদের ঝুঁকি আরও বেশি বলে মনে করছেন প্রবাসী সংগঠনের নেতারা।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের অপ্রয়োজনীয় চলাচল এড়িয়ে চলা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে থাকা এবং জরুরি প্রয়োজনে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আহত বাংলাদেশি পরিবারের দ্রুত সুস্থতা ও নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় একই পরিবারের চার বাংলাদেশি আহত হওয়ার ঘটনা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। চলমান সংঘাতের মধ্যে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত কূটনৈতিক ও মানবিক সহায়তা জোরদারের দাবি উঠেছে।