বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন
ছবির ক্যাপশান, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে মূল্যবান ধাতুর বাজারে।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম কমে আউন্সপ্রতি প্রায় ৪ হাজার ৪০০ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে, যা গত দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়। একই সঙ্গে জুনে ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার দরও কমেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের সাম্প্রতিক দরপতনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান ও উচ্চ সুদের হার নিয়ে নতুন শঙ্কা।

 

সাধারণত বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝোঁকেন। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় তেলের দাম বেড়েছে, আর তেলের দাম বাড়লে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির চাপও বাড়তে পারে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমানোর বদলে আরও দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে এমন ধারণা বাজারে তৈরি হয়েছে। এই প্রত্যাশা স্বর্ণের ওপর চাপ বাড়িয়েছে।

 

স্বর্ণ কোনো সুদ দেয় না। ফলে সুদের হার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীদের কাছে বন্ড বা ডলারভিত্তিক সম্পদ তুলনামূলক আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। এ কারণে ডলার শক্তিশালী হলে এবং বন্ডের ফলন বাড়লে স্বর্ণের চাহিদা কমে যায়। সাম্প্রতিক দরপতনেও সেই প্রভাব স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

 

মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইরানের বন্দর আব্বাস এলাকায় হামলা এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর জেরে তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হওয়ায় সেখানে যে কোনো উত্তেজনা বৈশ্বিক বাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলে।

 

এর আগে শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা ঘিরে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল। তখন ধারণা করা হচ্ছিল, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ কিছুটা কমবে। কিন্তু নতুন সামরিক উত্তেজনা সেই আশাবাদকে দুর্বল করেছে।

 

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও চাপ দেখা গেছে। রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও কমেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, শুধু স্বর্ণ নয়, পুরো মূল্যবান ধাতুর বাজারেই বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন।

 

বিশ্লেষকেরা বলছেন, আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য, ফেডারেল রিজার্ভের নীতি সংকেত, ডলারের গতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্বর্ণের দামের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়লে বাজারে নতুন অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তবে ডলার শক্তিশালী থাকলে স্বর্ণের দামে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।

 

সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের সাম্প্রতিক দরপতন বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সতর্কবার্তা। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা এই তিন চাপের মাঝেই স্বর্ণের বাজার এখন দোলাচলে রয়েছে।


সম্পর্কিত নিউজ