{{ news.section.title }}
জাতিসংঘের যৌন সহিংসতার ‘কালো তালিকায়’ ইসরায়েল
সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে যৌন সহিংসতার অভিযোগে জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক তালিকায় ইসরায়েলি সংস্থাকে যুক্ত করা হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের মহাসচিবের সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতাবিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনের সংযুক্ত তালিকায় ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের আরও কয়েকটি সংস্থাকে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তির জন্য নজরদারি কাঠামোর আওতায় রাখা হয়েছে। এর অর্থ, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, তদন্ত, জবাবদিহি ও ভবিষ্যৎ আচরণ পর্যবেক্ষণ করবে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ফিলিস্তিনি বন্দি ও আটক ব্যক্তিদের ওপর ইসরায়েলি কারাগার, আটককেন্দ্র এবং সামরিক হেফাজতে নির্যাতন, অপমানজনক আচরণ ও যৌন সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা বাড়ছে। মানবাধিকার সংগঠন, আইন সহায়তা সংস্থা ও সাবেক বন্দিদের সাক্ষ্যে এসব অভিযোগ বারবার উঠে এসেছে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা, পশ্চিম তীর ও ইসরায়েলি আটককেন্দ্র থেকে মুক্তি পাওয়া অনেক ফিলিস্তিনি বন্দি শারীরিক নির্যাতন, জোরপূর্বক নগ্ন করা, অপমানজনক তল্লাশি, হুমকি এবং যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, সামাজিক লজ্জা, ভয় ও নিরাপত্তাজনিত কারণে এমন অনেক ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না। ফলে নথিভুক্ত অভিযোগ বাস্তব ঘটনার তুলনায় অনেক কম হতে পারে।
এর আগে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে ইসরায়েলকে সতর্ক করা হয়েছিল যে, সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি ও পর্যবেক্ষকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত না করলে দেশটি ভবিষ্যতে আনুষ্ঠানিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এবার সেই সতর্কতার পর ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষকে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত এসেছে বলে জানা গেছে।
ইসরায়েল অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, দেশটি জাতিসংঘকে তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করেছে এবং অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জাতিসংঘের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ইসরায়েল মহাসচিবের কার্যালয়ের সঙ্গে সম্পর্ক স্থগিত করার কথাও জানিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে।
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, আটক ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি। তাদের মতে, কারাগার ও আটককেন্দ্রে সংঘটিত যেকোনো নির্যাতন শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়, আন্তর্জাতিক মানবিক আইনেরও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
জাতিসংঘের সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতার তালিকায় কোনো পক্ষের নাম যুক্ত হওয়া কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি সরাসরি ফৌজদারি রায় নয়, তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ায় এবং জবাবদিহির দাবি আরও জোরালো করে।
সব মিলিয়ে ইসরায়েলি সংস্থাকে জাতিসংঘের যৌন সহিংসতাবিষয়ক তালিকায় যুক্ত করার খবর গাজা যুদ্ধ, ফিলিস্তিনি বন্দিদের অধিকার এবং আন্তর্জাতিক তদন্ত প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। এখন নজর থাকবে জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন, ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।