হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বাড়ল, ইরানে নতুন হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বাড়ল, ইরানে নতুন হামলা যুক্তরাষ্ট্রের
ছবির ক্যাপশান, হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বাড়ল, ইরানে নতুন হামলা যুক্তরাষ্ট্রের
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি চারটি ইরানি একমুখী হামলা ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে মার্কিন পক্ষ।

মার্কিন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ইরানের বন্দর আব্বাস এলাকায় একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ওই স্থাপনাটি আরেকটি ড্রোন উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাটি ছিল প্রতিরক্ষামূলক এবং এর উদ্দেশ্য ছিল মার্কিন সেনা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

 

তবে ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কোন কোন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। ফলে হামলার প্রকৃত মাত্রা ও ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

 

এর আগে গত সোমবার ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে আরও কিছু লক্ষ্যবস্তুতে হামলার কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় মার্কিন সামরিক কমান্ড দাবি করে, মাইন পেতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করা নৌযান এবং মার্কিন বাহিনীর জন্য হুমকি হয়ে ওঠা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ইরান ওই হামলাকে চলমান যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করে।

 

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের বড় একটি অংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তাই এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তা দ্রুত প্রভাব ফেলে। নতুন হামলার খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ ও নৌ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চললেও সামরিক উত্তেজনা কমছে না। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সম্ভাব্য এক চুক্তির খসড়া নিয়ে দাবি করা হয়েছিল, যেখানে ইরান ও ওমান যৌথভাবে হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচল তদারকি করতে পারে বলে বলা হয়। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জলপথ এবং এটি খোলা থাকবে।

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানকে ঘিরে সংঘাত নতুন মাত্রা পায়। প্রায় তিন মাস ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে হাজারো মানুষের প্রাণহানি, নৌ চলাচলে বিঘ্ন এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যদিও পক্ষগুলোর মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার চেষ্টা চলছে, বারবার পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। সামরিক হামলা অব্যাহত থাকলে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল, তেল পরিবহন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নতুন করে চাপের মুখে পড়তে পারে।

 

সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালি এখন আবারও আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির কেন্দ্রে। সামরিক তৎপরতা, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা সবকিছু মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠছে।


সম্পর্কিত নিউজ