{{ news.section.title }}
ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করলেও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠবে না: ট্রাম্প
ইরান উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর বা ত্যাগ করলেও দেশটির ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যেই তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক অচলাবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বুধবার এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, চলমান আলোচনার সম্ভাব্য রূপরেখায় ইরান যদি উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ছেড়ে দেয়, তাহলে কি এর বিনিময়ে দেশটির ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে? জবাবে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা ছাড় দেওয়া হবে না।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানকে উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ছাড়তেই হবে, তবে তা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে নয়। তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরানের পরমাণু সক্ষমতা সীমিত করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মূল অগ্রাধিকার হলেও তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখার নীতি থেকে ওয়াশিংটন সরে আসছে না।
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নানা ধরনের আলোচনা সামনে এসেছে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা যায়, একটি প্রস্তাবিত কাঠামোয় ইরান উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর বা ধ্বংসে সম্মত হতে পারে। তবে সেই মজুত কোথায় যাবে, কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে বা কীভাবে তা যাচাই করা হবে এসব বিষয় এখনো আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
একই সঙ্গে ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, যেকোনো সমঝোতার শর্ত হিসেবে দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে এবং জব্দ করা সম্পদ ছাড় দিতে হবে। কিন্তু ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্য সেই দাবির বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করল।
বিশ্লেষকদের মতে, পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার অবস্থান ইরানের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ তেহরান মনে করে, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ছাড় দেওয়ার বিনিময়ে অর্থনৈতিক সুবিধা না পেলে কোনো চুক্তির রাজনৈতিক মূল্য থাকবে না।
অন্যদিকে ওয়াশিংটনের অবস্থান হলো, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা থেকে পুরোপুরি দূরে রাখতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ইরানের হাতে থাকলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে।
ট্রাম্প আরও বলেছেন, চলমান আলোচনা এখনো যুক্তরাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তাঁর মতে, ইরান একটি চুক্তি করতে চায়, তবে বর্তমান প্রস্তাবগুলো ওয়াশিংটনের জন্য যথেষ্ট নয়। তিনি হরমুজ প্রণালি নিয়েও বলেন, এটি আন্তর্জাতিক জলপথ এবং কোনো একক দেশ এর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে না।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক অস্থিরতা এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার ভবিষ্যৎ এখন আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির পথে নতুন জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।