{{ news.section.title }}
হরমুজে ‘চাঁদাবাজি’র অভিযোগে ইরানি সংস্থার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের অভিযোগে ইরানের কথিত ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষের’ ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, সংস্থাটি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর হয়ে বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্য থেকে অর্থ আদায়ের একটি কাঠামো হিসেবে কাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ দেওয়ার নামে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে তথাকথিত টোল বা ফি দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। শুধু অর্থ আদায় নয়, জাহাজগুলোর কাছ থেকে সংবেদনশীল পরিচালনাগত তথ্যও নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ শেষ পর্যন্ত ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর হাতে পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সংস্থাটির সঙ্গে সহযোগিতা করা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, জাহাজমালিক, বীমা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক বা অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীরাও নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্য থেকে অর্থ আদায়ের ইরানি সামরিক বাহিনীর এই প্রচেষ্টা প্রমাণ করে, অর্থনৈতিক চাপের কারণে তেহরান নগদ অর্থের সংকটে পড়েছে। তাঁর ভাষায়, ইরানের রাজস্ব উৎস সংকুচিত করতে যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপের নীতি অব্যাহত রাখবে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক নৌপথ। বৈশ্বিক তেল ও এলএনজি পরিবহনের উল্লেখযোগ্য অংশ এই প্রণালি দিয়ে যায়। ফলে এই নৌপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি, সামরিক উত্তেজনা বা জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত প্রভাব পড়ে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরান দাবি করছে, নিরাপত্তার স্বার্থে ওই জলপথে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে নির্দিষ্ট নিয়ম ও রুট মেনে চলতে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, আন্তর্জাতিক নৌপথে এ ধরনের অনুমতি বা অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা অবৈধ এবং মুক্ত নৌ চলাচলের নীতির পরিপন্থী।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ জব্দ হতে পারে এবং মার্কিন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন নিষিদ্ধ হবে। একই সঙ্গে তৃতীয় দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সতর্ক করা হয়েছে, তারা যদি ওই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য লেনদেনে যুক্ত হয়, তাহলে তারাও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায়ের অভিযোগ এবং এর জেরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এতে জাহাজমালিক, বীমা প্রতিষ্ঠান ও জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলো নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।
সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এখন শুধু সামরিক বা কূটনৈতিক ইস্যু নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স