১৯৬৪ সালের পর প্রথমবার নিউইয়র্কের কোনো মেয়র হিসেবে ইসরায়েল প্যারেডে অংশ নিচ্ছেন না জোহরান মামদানি

১৯৬৪ সালের পর প্রথমবার নিউইয়র্কের কোনো মেয়র হিসেবে ইসরায়েল প্যারেডে অংশ নিচ্ছেন না জোহরান মামদানি
ছবির ক্যাপশান, ৬১ বছরের রীতি ভাঙছেন জোহরান মামদানি, ইসরায়েল প্যারেডে থাকছেন না নিউইয়র্ক মেয়র

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি আসন্ন ‘ইসরায়েল ডে প্যারেডে’ অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শহরটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও নাগরিক রীতি থেকে তাঁর এই সরে দাঁড়ানো নিয়ে নিউইয়র্কের ইহুদি সম্প্রদায়ের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

আগামী ৩১ মে ম্যানহাটনের ফিফথ অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে ঐতিহ্যবাহী এই প্যারেড। ইসরায়েলের বাইরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইহুদি জনগোষ্ঠীর বসবাস নিউইয়র্কে। তাই প্রতিবছরের এই আয়োজনকে ইসরায়েল রাষ্ট্র এবং স্থানীয় ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতির বড় প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

 

চলতি মাসের শুরুতে মামদানি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, তিনি এবারের প্যারেডে অংশ নেবেন না। তাঁর এই সিদ্ধান্তের পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও ইহুদি সংগঠনগুলোর মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। সমালোচকদের মতে, ১৯৬৪ সালে প্রথমবার প্যারেড আয়োজনের পর থেকে নিউইয়র্কের দায়িত্বে থাকা মেয়ররা নিয়মিত এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে মামদানির অনুপস্থিতি শহরের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য থেকে একটি বড় বিচ্যুতি।

 

সাবেক মেয়র প্রশাসনের ইহুদি বিদ্বেষবিরোধী দপ্তরের সাবেক এক কর্মকর্তা বলেন, নিউইয়র্ক ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েল ও ইহুদি সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। তাঁর মতে, প্যারেডে মেয়রের না যাওয়া শুধু একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং শহরের ইতিহাস ও প্রতীকী ঐক্যের প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ।

 

তবে মামদানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাঁর অনুপস্থিতিকে ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি অসম্মান হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তিনি জানিয়েছেন, নিউইয়র্কে ইহুদি জীবন, ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে উদযাপনের বিভিন্ন আয়োজনে তিনি অংশ নেবেন এবং আয়োজক হিসেবেও থাকবেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, প্যারেডের নিরাপত্তা, অনুমতি বা প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তায় কোনো ঘাটতি থাকবে না।

 

মামদানি আরও বলেন, তিনি বিশ্বের সব মানুষের সমান অধিকারে বিশ্বাস করেন এবং সেই নীতিই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে পরিচালিত করে। এর আগে ২০২৫ সালের এক সাক্ষাৎকারেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, রাজনৈতিক নীতির কারণে তিনি নিউইয়র্কের কিছু ঐতিহ্যবাহী প্যারেডে অংশ নাও নিতে পারেন এবং প্রতিটি আয়োজন আলাদাভাবে বিবেচনা করবেন।

 

এদিকে প্যারেড আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মেয়রের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও এবারের আয়োজনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেশি হতে পারে। তাদের প্রত্যাশা, ইহুদি সম্প্রদায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতিগত গোষ্ঠীর মানুষও এবার প্যারেডে অংশ নেবে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে।

 

তবে বিতর্ক এখানেই থেমে নেই। মামদানির সিদ্ধান্তের জেরে কয়েকটি বড় ইহুদি সংগঠন তাঁর আয়োজিত ইহুদি ঐতিহ্যবিষয়ক অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের অভিযোগ, ইসরায়েল রাষ্ট্র নিয়ে মামদানির অবস্থান নিউইয়র্কের অনেক ইহুদি নাগরিকের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

অন্যদিকে মামদানি প্রশাসন বলছে, শহরের ইহুদি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের অগ্রাধিকার। নিউইয়র্কে ঘৃণাজনিত অপরাধ প্রতিরোধে আলাদা বরাদ্দ ও উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

 

সব মিলিয়ে ইসরায়েল ডে প্যারেডে মামদানির অনুপস্থিতির সিদ্ধান্ত নিউইয়র্কের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। একদিকে এটি মেয়রের রাজনৈতিক অবস্থানের প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে সমালোচকেরা একে শহরের দীর্ঘদিনের নাগরিক ঐতিহ্য থেকে সরে আসা হিসেবে দেখছেন।


সম্পর্কিত নিউজ