{{ news.section.title }}
চীনের একক আধিপত্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
চীনের একক আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সিঙ্গাপুরে চলমান এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সম্মেলন ‘শাংরি-লা ডায়ালগ’-এ বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কোনো একক রাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তার আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
চীনকে উদ্দেশ করে হেগসেথ বলেন, চীনসহ কোনো রাষ্ট্রই এমন অবস্থান তৈরি করতে পারবে না, যা যুক্তরাষ্ট্র, তার মিত্রদেশ ও অংশীদারদের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে। তাঁর ভাষায়, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে শক্তির ভারসাম্য ধরে রাখা জরুরি।
তবে কঠোর সতর্কবার্তার পাশাপাশি তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক বর্তমানে বহু বছরের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে। দুই দেশের সামরিক পর্যায়ে যোগাযোগের পথ আগের চেয়ে বেশি উন্মুক্ত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ওয়াশিংটন চীনের সঙ্গে সংঘাত চায় না; বরং প্রতিরোধ, সংলাপ ও ভারসাম্যের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়।
হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় চীন যেন এ অঞ্চলে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের উপস্থিতি ও ভূমিকার প্রতি সম্মান দেখায়। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, একক আধিপত্যের চেষ্টা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোকে দুর্বল করে দিতে পারে। তাঁর মতে, ছোট-বড় সব দেশের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার এবং সমুদ্রপথে অবাধ চলাচলের পরিবেশ বজায় রাখা এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শাংরি-লা ডায়ালগে দেওয়া বক্তব্যে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিত্রদেশগুলোকেও নিজেদের নিরাপত্তা ব্যয় বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ধনী অংশীদার দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র বহন করে আসছে, তবে এখন মিত্রদেরও আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। এশীয় মিত্রদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, নিরাপত্তা কেবল এক দেশের দায়িত্ব নয়; এটি অংশীদারিত্বের বিষয়।
ইরান যুদ্ধের কারণে গত কয়েক মাস ধরে ওয়াশিংটনের মনোযোগ মধ্যপ্রাচ্যের দিকে বেশি থাকলেও হেগসেথ দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে সরে যায়নি। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র একই সঙ্গে একাধিক অঞ্চলে নিরাপত্তা অঙ্গীকার রক্ষা করতে সক্ষম। তিনি বলেন, একটি মুক্ত, উন্মুক্ত ও স্থিতিশীল ইন্দো-প্যাসিফিক বজায় রাখা ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।
সম্মেলনে তাইওয়ান, দক্ষিণ চীন সাগর, আঞ্চলিক সামরিক প্রতিযোগিতা এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সম্মেলনে অংশ না নেওয়ায় বিষয়টি নিয়েও কূটনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে বেইজিং একটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হেগসেথের বক্তব্যে একদিকে চীনের প্রতি সতর্কবার্তা ছিল, অন্যদিকে সরাসরি সংঘাত এড়ানোর ইঙ্গিতও ছিল। অর্থাৎ ওয়াশিংটন চীনকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখলেও সামরিক যোগাযোগ ও কূটনৈতিক সংলাপ চালু রাখতে আগ্রহী। তবে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারের কোনো চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র সহজভাবে নেবে না এই বার্তাই স্পষ্ট করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।