দুই মাসের যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রস্তুত, অপেক্ষা ট্রাম্পের অনুমোদনের

দুই মাসের যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রস্তুত, অপেক্ষা ট্রাম্পের অনুমোদনের
ছবির ক্যাপশান, দুই মাসের যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রস্তুত, অপেক্ষা ট্রাম্পের অনুমোদনের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত সাময়িকভাবে থামাতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়ে প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে দুই পক্ষ। তবে চুক্তিটি এখনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, এক মাসের বেশি সময় ধরে দফায় দফায় আলোচনার পর যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে দুই পক্ষ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণের পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরুর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

চুক্তিটি কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা, আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা আনা এবং বৃহত্তর শান্তিচুক্তির পথ তৈরি করাই এই সমঝোতার প্রধান লক্ষ্য।

 

তবে চুক্তি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। তেহরান থেকে ভিন্ন বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হলেও এটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসও ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সম্ভাব্য ১৪ দফা খসড়ার কিছু অংশকে অস্বীকার করেছে।

 

ইরানের প্রকাশিত খসড়ায় দাবি করা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করবে, হরমুজ প্রণালিতে বেসামরিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং প্রণালির রুট ব্যবস্থাপনায় ইরান ও ওমান ভূমিকা রাখবে। তবে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই খসড়াকে নির্ভরযোগ্য বলে স্বীকার করা হয়নি।

 

গত কয়েক দিনে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে দুই দেশই পরস্পরকে দায়ী করেছে। দক্ষিণ ইরানে নতুন মার্কিন হামলার পর ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী একটি মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলার দাবি করে। এতে চলমান আলোচনা আরও জটিল হয়ে ওঠে।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা এগোলেও বর্তমান প্রস্তাব এখনো সন্তোষজনক নয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একটি ভালো চুক্তিতে পৌঁছাতে আরও কাজ বাকি রয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাড়াহুড়ো করে কোনো চুক্তি করতে চান না।

 

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতার ক্ষেত্রে এখনো কিছু গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম মজুত, সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পারমাণবিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানে ফারাক রয়েছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, দুই দেশ একটি চুক্তির কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা কিছুটা কমতে পারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হলে তেলবাজারেও স্বস্তি ফিরতে পারে। তবে রাজনৈতিক অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত এই সমঝোতাকে নিশ্চিত অগ্রগতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

 

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সম্ভাবনা তৈরি করলেও তা এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ট্রাম্পের অনুমোদন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থান এবং পরবর্তী কূটনৈতিক আলোচনার ওপর।


সম্পর্কিত নিউজ