{{ news.section.title }}
সুইজারল্যান্ডের ট্রেন স্টেশনে ছুরিকাঘাত, আহত ৩
সুইজারল্যান্ডের উইন্টারথার ট্রেন স্টেশনে ছুরিকাঘাতে তিনজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে জুরিখের কাছাকাছি অবস্থিত ব্যস্ত এই স্টেশনে হামলার পর ৩১ বছর বয়সী এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সুইস কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে দেখছে।
স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টার কিছু আগে উইন্টারথার স্টেশন এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, জরুরি সেবা সংস্থাকে খবর দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। হামলার পরপরই স্টেশন এলাকায় বড় ধরনের পুলিশি অভিযান শুরু হয় এবং কিছু অংশ সাময়িকভাবে ঘিরে রাখা হয়।
আহত তিনজনই সুইস নাগরিক। তাদের বয়স ২৮, ৪৩ ও ৫২ বছর। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। ৫২ বছর বয়সী ব্যক্তি উরুতে গুরুতর আঘাত পাওয়ায় তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্য দুইজনের মধ্যে একজন পায়ে এবং আরেকজন ঘাড়ে আঘাত পেয়েছেন। তাদের অবস্থা তুলনামূলক স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
জুরিখ অঞ্চলের পুলিশ প্রধান মারিয়ুস ওয়েয়ারম্যান জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তি উইন্টারথারের বাসিন্দা। তার সুইস ও তুর্কি দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। তিনি সুইজারল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০০৯ সালে সুইস নাগরিকত্ব পান। সাম্প্রতিক বছরগুলোর একটি বড় অংশ তিনি তুরস্কে কাটিয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ২০১৫ সাল থেকেই নিরাপত্তা সংস্থার নজরে ছিলেন। সে সময় উগ্রপন্থী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের প্রচারণা সামগ্রী ছড়ানোর অভিযোগে তার নাম পুলিশের নজরে আসে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তিনি পুলিশের জরুরি নম্বরে ফোন করে অসংলগ্ন কথা বলেছিলেন। এরপর তাকে একটি মানসিক চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসক তাকে বিপজ্জনক মনে না করায় হামলার আগের দিন তিনি হাসপাতাল ছাড়েন।
জুরিখ অঞ্চলের নিরাপত্তা বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা মারিও ফেহর এই হামলাকে ‘জঘন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হামলার পেছনে কোনো বড় নেটওয়ার্ক জড়িত কি না, তা এখনো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি একাই হামলা চালিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, হামলার সময় স্টেশন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান। কাছাকাছি থাকা একদল শিক্ষার্থীকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। হামলার পর স্টেশন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
উইন্টারথার সুইজারল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। জুরিখের কাছাকাছি হওয়ায় এ স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী চলাচল করেন। ব্যস্ত সময়ে এমন হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সুইস কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এখন হামলাকারীর অতীত যোগাযোগ, সাম্প্রতিক চলাফেরা, মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য উগ্রবাদী যোগসূত্র যাচাই করছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে হামলার উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।