{{ news.section.title }}
ইরানি হামলায় লণ্ডভণ্ড বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটি, ধ্বংস যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শেখ ঈসা (Sheikh Isa) বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাবে পরিচালিত ‘প্রতিশোধমূলক অভিযানের’ অংশ।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ এবং আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলায় শেখ ঈসা বিমানঘাঁটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আইআরজিসি এটিকে তাদের চলমান প্রতিশোধমূলক অভিযানের দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতার জবাব দিতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
ইরানি পক্ষের দাবি, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ঘাঁটির ড্রোন পরিচালনা ও কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল অবকাঠামো। এছাড়া ড্রোন অপারেশন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, বিমান হ্যাঙ্গার এবং রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে ইরান কোনো স্যাটেলাইট ছবি, ভিডিও বা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ করেনি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) কিংবা বাহরাইন সরকার এখন পর্যন্ত শেখ ঈসা বিমানঘাঁটিতে উল্লেখিত মাত্রার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পারস্য উপসাগরজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি এসেছে। বাহরাইন ছাড়াও কুয়েত, জর্ডান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার কথা জানিয়েছে আইআরজিসি। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নৌবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামরিক স্থাপনা। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমান অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে এই ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে ঘাঁটিটিকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
এদিকে আইআরজিসি এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখে, তাহলে অঞ্চলজুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ভবিষ্যতেও তাদের লক্ষ্যবস্তু হবে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান এখনো শেষ হয়নি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানের এসব সামরিক দাবির বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে ওয়াশিংটন আগেই জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সময়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।