{{ news.section.title }}
ব্যাংককের বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৭, আশঙ্কাজনক ২২
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের চাতুচাক (Chatuchak) জেলায় অবস্থিত জনপ্রিয় ‘রং বিয়ার না লাত ফ্রাও’ (Rong Beer Na Lat Phrao) বার ও রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৬৩ জন, যাদের মধ্যে ২২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে থাইল্যান্ডের বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ডগুলোর একটি হিসেবে ঘটনাটি বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় রোববার (১২ জুলাই) রাত প্রায় ১১টা ৫৭ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আগুনের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও এর আগেই ভয়াবহ হতাহতের ঘটনা ঘটে। ভবনটির সামনের অংশ, মঞ্চ এলাকা এবং অভ্যন্তরের বড় অংশ আগুনে পুড়ে যায়।
ঘটনার পরপরই থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিকভাবে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা থেকে জানা গেছে, মঞ্চের পাশে থাকা একটি সার্কিট ব্রেকার থেকে প্রথমে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। এরপর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে ঘন ধোঁয়া ও আগুন পুরো বারজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ মানুষ ধোঁয়া থেকে বাঁচতে ভবনের পেছনের দিকে ছুটে যান। অনেকেই পেছনের শৌচাগারে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পরে সেখান থেকেই বহু মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আতঙ্কের কারণে অনেকেই মূল প্রবেশপথ ব্যবহার না করে ভবনের পেছনের অংশে চলে যান, যা প্রাণহানির সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়।
ব্যাংককের গভর্নর চাদচার্ট সিত্তিপুন্ত জানান, আহত ৬৩ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২২ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন। নিহতদের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে, কারণ অনেকের কাছেই পরিচয়পত্র ছিল না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পুরো ভবন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। একজন সংগীতশিল্পী বলেন, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পরই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং আগুন দ্রুত ছাদের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ভবনের প্রবেশমুখ দিয়ে আগুনের বিশাল শিখা বের হচ্ছে এবং আতঙ্কিত মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন।
অগ্নিকাণ্ডের পর ভবনটি ঘিরে রেখে তদন্ত শুরু করেছে থাই পুলিশ ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। তদন্তকারীরা আগুনের উৎস, ভবনের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, ছাদের দাহ্য উপকরণ এবং জরুরি নির্গমনপথের কার্যকারিতা খতিয়ে দেখছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জরুরি নির্গমনপথে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
থাইল্যান্ডে অতীতেও একাধিক বড় অগ্নিকাণ্ডে বহু মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ২০০৯ সালে ব্যাংককের সান্তিকা নাইটক্লাবে নববর্ষ উদ্যাপনের সময় ভয়াবহ আগুনে ৬৬ জন নিহত হয়েছিলেন। ২০২২ সালেও পূর্ব থাইল্যান্ডের একটি বিনোদনকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৪ জন প্রাণ হারান। সর্বশেষ এই দুর্ঘটনার পর দেশটির বিনোদনকেন্দ্রগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ নির্ধারণে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। একই সঙ্গে ভবনটির নিরাপত্তা মান, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং জরুরি বহির্গমনপথের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে থাই প্রশাসন।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স