{{ news.section.title }}
ইহুদিদের নিরাপত্তায় ২৫০ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ দিল যুক্তরাজ্য
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাজ্যে ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা ও ইহুদিবিদ্বেষমূলক অপরাধ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে তাদের নিরাপত্তা জোরদারে ২৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি ব্যয়ের একটি নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। তিন বছর মেয়াদি এই পরিকল্পনার আওতায় ইংল্যান্ড ও ওয়েলসজুড়ে ৫০০ জনের বেশি অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হবে, যারা ইহুদি অধ্যুষিত এলাকা, উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটি সেন্টারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।
সরকার জানিয়েছে, নতুন কর্মসূচির সবচেয়ে বড় অংশ বাস্তবায়ন হবে লন্ডনে, যেখানে প্রায় ৩০০ জন অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া গ্রেটার ম্যানচেস্টারে প্রায় ৮০ জন নতুন কর্মকর্তা মোতায়েন করা হবে। বাকি অর্থ হার্টফোর্ডশায়ার, ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস, সাসেক্সসহ উল্লেখযোগ্য ইহুদি জনগোষ্ঠী রয়েছে এমন অন্যান্য অঞ্চলের পুলিশ বাহিনীকে দেওয়া হবে।
নতুন পরিকল্পনার আওতায় সিনাগগ, ইহুদি স্কুল, কমিউনিটি সেন্টার এবং আবাসিক এলাকায় দৃশ্যমান পুলিশ টহল উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে। পাশাপাশি Project Servator কর্মসূচির মাধ্যমে সাদা পোশাকের বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদেরও মোতায়েন করা হবে, যারা সন্দেহজনক আচরণ শনাক্ত এবং সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধে কাজ করবেন।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইহুদিবিদ্বেষ যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, তা শুধু একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের জন্য নয়, বরং পুরো দেশের মূল্যবোধের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, “যুক্তরাজ্যের প্রতিটি মানুষ যেন ভয় ছাড়াই নিজের ধর্ম পালন করতে পারে, সেটি নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই আমার সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।”
সরকারের ঘোষণায় বলা হয়েছে, নতুন বরাদ্দের অংশ হিসেবে ৫৯ মিলিয়ন পাউন্ড সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ ইউনিটের সক্ষমতা বাড়াতে ব্যয় করা হবে। এছাড়া ইহুদিবিদ্বেষবিরোধী জনসচেতনতা, শিক্ষা কার্যক্রম এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক নিরাপত্তা উদ্যোগেও অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার ম্যাট জুকস বলেন, ঘৃণাপ্রসূত অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ এবং বৈরী বিদেশি রাষ্ট্রের কার্যক্রমের কারণে যুক্তরাজ্যের ইহুদি সম্প্রদায় বর্তমানে বিশেষ নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তাঁর মতে, নতুন এই বিনিয়োগ শুধু পুলিশি উপস্থিতি বাড়াবে না, বরং সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধের সক্ষমতাও শক্তিশালী করবে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক কয়েকটি আলোচিত হামলা। গত মার্চে লন্ডনের গোল্ডার্স গ্রিনে ইহুদি সম্প্রদায়ের ব্যবহৃত চারটি হাৎজোলা অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এরপর এপ্রিলের শেষ দিকে একই এলাকায় ছুরিকাঘাতে দুই ইহুদি আহত হন। ব্রিটিশ পুলিশ ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে তদন্ত করছে। এছাড়া লন্ডনের কয়েকটি সিনাগগে অগ্নিসংযোগ ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টার ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনার পর যুক্তরাজ্যের জাতীয় সন্ত্রাসী হুমকির মাত্রা "Severe" বা গুরুতর পর্যায়ে উন্নীত করা হয়।
হামলাগুলোর পর স্টারমার সরকার বিদেশি রাষ্ট্র-সমর্থিত হুমকি মোকাবিলায় নতুন আইনও প্রণয়ন করেছে। এর আওতায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এবং ইহুদিবিদ্বেষী হামলার দায় স্বীকারকারী Islamic Movement of Companions of the Right (IMCR)-কে নতুন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার বলছে, এর ফলে এসব সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
ইহুদি সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা অবকাঠামো উন্নয়ন ইহুদি জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিরাপত্তাবোধ ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে তারা একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে ঘৃণাপ্রসূত অপরাধ ও উগ্রবাদ মোকাবিলায় আরও বিস্তৃত সামাজিক উদ্যোগেরও আহ্বান জানিয়েছেন।