{{ news.section.title }}
প্রতি ৭৬ সেকেন্ডে একটি ইলেকট্রিক গাড়ি তৈরি করছে শাওমি
চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্পে নতুন চমক দেখাচ্ছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শাওমি। বেইজিংয়ের কারখানায় প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন লাইন থেকে প্রতি ৭৬ সেকেন্ডে একটি নতুন ইলেকট্রিক গাড়ি বেরিয়ে আসছে। উৎপাদনের এই গতি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নয়, বরং বৈশ্বিক গাড়ি শিল্পে চীনের দ্রুত উত্থানের প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
শাওমি মূলত স্মার্টফোন ও প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা হিসেবে পরিচিত। তবে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে প্রবেশের পর অল্প সময়েই প্রতিষ্ঠানটি বড় আলোচনায় এসেছে। তাদের কারখানায় শত শত রোবট একসঙ্গে কাজ করছে। গাড়ির বডি তৈরি, ওয়েল্ডিং, পেইন্টিং, অ্যাসেম্বলি ও মান নিয়ন্ত্রণের অনেক ধাপেই স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে উৎপাদনের গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি খরচও তুলনামূলক কমানো সম্ভব হচ্ছে।
চীনের গাড়ি শিল্পে এখন শুধু প্রচলিত অটোমোবাইল কোম্পানিগুলোই নয়, শাওমি, হুয়াওয়ে, আলিবাবা ও এক্সপেংয়ের মতো প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে গাড়ি এখন শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়; এটি হয়ে উঠছে সফটওয়্যার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ব্যাটারি প্রযুক্তি, স্মার্ট ডিভাইস ও সংযুক্ত ডিজিটাল সেবার সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম।
বিওয়াইডি ইতোমধ্যে এমন ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তি এনেছে, যার মাধ্যমে মাত্র পাঁচ মিনিটে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার চলার মতো চার্জ দেওয়া সম্ভব বলে দাবি করা হয়েছে। এক্সপেং বৈদ্যুতিক গাড়ির পাশাপাশি রোবোট্যাক্সি, হিউম্যানয়েড রোবট ও উড়ন্ত গাড়ি নিয়েও কাজ করছে। অন্যদিকে নিওর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো উন্নত স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ব্যবস্থা, ব্যাটারি বদল প্রযুক্তি এবং স্মার্ট ড্রাইভিং সেবায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।
চীনের এই দ্রুত অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও জাপানের প্রচলিত গাড়ি নির্মাতাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একসময় চীনের বাজারে বিদেশি ব্র্যান্ডের শক্ত অবস্থান ছিল। কিন্তু বৈদ্যুতিক গাড়ি ও স্মার্ট প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় স্থানীয় চীনা ব্র্যান্ডগুলো দ্রুত এগিয়ে গেছে। ফলে বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর বাজার অংশীদারত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিযোগিতা শুধু ইলেকট্রিক গাড়ি নিয়ে নয়; বরং ভবিষ্যতের ‘মোবিলিটি প্রযুক্তি’ কার হাতে থাকবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। গাড়ির ব্যাটারি, সফটওয়্যার, স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং, রোবোটিকস ও ডিজিটাল ইকোসিস্টেম সব ক্ষেত্রেই চীন নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করছে।
চীনের শক্তিশালী সরবরাহব্যবস্থা, ব্যাটারি উৎপাদনে আধিপত্য, কম উৎপাদন ব্যয় এবং সরকারি সহায়তা দেশটির গাড়ি শিল্পকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চীনা গাড়ি কোম্পানিগুলো এখন দ্রুত বিস্তার ঘটাচ্ছে। ইউরোপে বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হলেও বিওয়াইডি, চেরি, এসএআইসি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান নতুন বাজারে প্রবেশের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
বিদেশি গাড়ি নির্মাতারাও এখন চীনা প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান চীনে গবেষণা কেন্দ্র বাড়াচ্ছে, স্থানীয় কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে সফটওয়্যার ও ইভি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে এবং চীনা নকশার গাড়ি আন্তর্জাতিক বাজারে আনার পরিকল্পনা করছে।
সব মিলিয়ে শাওমির প্রতি ৭৬ সেকেন্ডে একটি ইলেকট্রিক গাড়ি উৎপাদনের ঘটনা বিশ্ব গাড়ি শিল্পে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। স্মার্টফোনের মতো দ্রুত উদ্ভাবন, সফটওয়্যারনির্ভর অভিজ্ঞতা এবং স্বয়ংক্রিয় উৎপাদনের সমন্বয়ে চীনা কোম্পানিগুলো বৈশ্বিক অটোমোবাইল শিল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি