ইরানের সক্ষমতা নিয়ে শত্রুদের হিসাব ভুল ছিল: আইআরজিসি কমান্ডার

ইরানের সক্ষমতা নিয়ে শত্রুদের হিসাব ভুল ছিল: আইআরজিসি কমান্ডার
ছবির ক্যাপশান, ইরানের সক্ষমতা নিয়ে শত্রুদের হিসাব ভুল ছিল: আইআরজিসি কমান্ডার

ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও জনগণের সংকল্প মূল্যায়নে তেহরানের শত্রুরা বড় ধরনের কৌশলগত ভুল করেছিল বলে দাবি করেছেন দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের রাজনৈতিক বিষয়ক ডেপুটি ইয়াদুল্লাহ জাভানি। তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে দ্রুত বিজয় অর্জনের যে ধারণা শত্রুরা করেছিল, তা বাস্তবে ব্যর্থ হয়েছে।

শনিবার রাতে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির এই শীর্ষ কমান্ডার বলেন, শত্রুরা ভুলভাবে ধরে নিয়েছিল যে সামরিক চাপ, আকাশ হামলা ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানি জাতিকে দুর্বল করা যাবে। কিন্তু ইরানের জনগণের ঐক্য, প্রতিরোধক্ষমতা এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতি তাদের সেই হিসাব পাল্টে দিয়েছে।

 

জাভানি দাবি করেন, শত্রুদের কৌশলগত লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা, দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মূল করা এবং শেষ পর্যন্ত ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটানো। তার ভাষায়, এসব লক্ষ্য পূরণে তারা ব্যর্থ হয়েছে। বরং যুদ্ধের পর আঞ্চলিক সমীকরণ ইরানের অনুকূলে বদলে গেছে।

 

তিনি বলেন, শত্রুরা মনে করেছিল ইরানকে দ্রুত চাপে ফেলা যাবে। কিন্তু বাস্তবে ইরান এখন আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। জাভানির দাবি, যুদ্ধক্ষেত্র, কূটনীতি ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে ইরান এখন সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

 

আইআরজিসি কমান্ডার আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের প্রতিরোধক্ষমতা ভুলভাবে মূল্যায়ন করেছে। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে তারা যে ফল আশা করেছিল, তা পায়নি। বরং এই সংঘাত ইরানের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে আরও দৃঢ় করেছে।

 

জাভানি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, এখন ওয়াশিংটনের সামনে দুটি পথ খোলা আছে। একটি হলো ইরানি জনগণের অধিকার, শর্ত ও অবস্থান মেনে নেওয়া; অন্যটি হলো যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া। তার দাবি, ইরান নিজের শর্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে এবং এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা যুক্তরাষ্ট্রের।

 

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধের পথ বেছে নেয়, তাহলে তার পরিণতি ভালো হবে না। অন্যদিকে, যদি ইরানের অধিকার মেনে নেয় এবং বাস্তবতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে বর্তমান সংকটের সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে।

 

সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, হরমুজ প্রণালি, ড্রোন হামলা ও আঞ্চলিক সামরিক উপস্থিতি ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের সামরিক কার্যক্রমকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে তেহরান বলছে, নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা রক্ষায় তারা কোনো ছাড় দেবে না।

 

বিশ্লেষকদের মতে, আইআরজিসি কমান্ডারের এই বক্তব্য শুধু সামরিক মূল্যায়ন নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ তৈরিরও অংশ। ইরান দেখাতে চাইছে, সামরিক চাপ বা নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তাকে নত করা সম্ভব নয়।

তবে যুদ্ধক্ষেত্রের ক্ষয়ক্ষতি, সামরিক সফলতা বা ব্যর্থতা নিয়ে দুই পক্ষের দাবির স্বাধীন যাচাই অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন। এ কারণে সংশ্লিষ্ট বক্তব্যগুলোকে পক্ষগুলোর নিজস্ব অবস্থান হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

 

সব মিলিয়ে ইয়াদুল্লাহ জাভানির বক্তব্যে ইরানের বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। তেহরান দাবি করছে, শত্রুদের কৌশল ব্যর্থ হয়েছে এবং এখন আঞ্চলিক পরিস্থিতি ইরানের পক্ষে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে, উত্তেজনা কমবে নাকি সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হবে।


সম্পর্কিত নিউজ