অত্যাধুনিক মার্কিন ড্রোন ধ্বংসের দাবি ইরানের

অত্যাধুনিক মার্কিন ড্রোন ধ্বংসের দাবি ইরানের
ছবির ক্যাপশান, এআই ছবি

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ (MQ-9 Reaper) ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে। একই সঙ্গে জর্ডানের আজরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছে তেহরান। তবে এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়নি।

আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের মহাকাশ বাহিনীর নতুন মোতায়েন করা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আন্দিমেশক শহরের আকাশে একটি শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত করে ভূপাতিত করেছে। তবে ড্রোনটির মালিকানা সম্পর্কে তারা স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

 

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, জর্ডানের আজরাক বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের দাবি, হামলায় সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, রাডার এবং জ্বালানি সংরক্ষণাগার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তেহরান বলছে, এটি তাদের চলমান 'সায়েকেহ' সামরিক অভিযানের নবম ধাপের অংশ এবং সাম্প্রতিক এক হামলায় সাত ইরানি সেনা নিহত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

 

অন্যদিকে জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে। জর্ডানের দাবি, এসব হামলায় উল্লেখযোগ্য কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

 

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এখন পর্যন্ত ইরানের এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি বা জর্ডানের ঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ দেয়নি।

 

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে। এ পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টা নতুন করে চাপে পড়েছে।


সম্পর্কিত নিউজ