{{ news.section.title }}
দুপুরের মধ্যে ৪ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আশঙ্কা
দেশের চার জেলার ওপর দিয়ে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর ১টার মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একইসঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য প্রকাশিত বিশেষ আবহাওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে অস্থায়ীভাবে বজ্রবৃষ্টি হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হওয়ার প্রাক্কালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কালবৈশাখী ধরনের ঝড়, বজ্রপাত ও আকস্মিক বৃষ্টিপাতের প্রবণতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে দমকা হাওয়ার তীব্রতা বেশি থাকতে পারে।
এদিকে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টা বা পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এই আবহাওয়াগত অবস্থার প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু (বর্ষা) টেকনাফ উপকূল পর্যন্ত অগ্রসর হওয়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মৌসুমি বায়ু আরও বিস্তার লাভ করলে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে।
এ ছাড়া ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বজ্রপাতের ঝুঁকিও থাকায় জনসাধারণকে প্রয়োজন ছাড়া খোলা স্থানে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বজ্রপাতের সময় উঁচু গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং খোলা মাঠ এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দিনের তাপমাত্রা ও বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতার তারতম্যের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হঠাৎ করেই ঝড়ো আবহাওয়ার সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হলেও অনেক এলাকায় ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি বায়ু আরও সক্রিয় হলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে এবং তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।
নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনকে আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিকূল আবহাওয়ায় ছোট নৌযানগুলোকে বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের সম্ভাবনা থাকায় কৃষক, জেলে এবং খোলা স্থানে কর্মরত ব্যক্তিদেরও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে পরবর্তী পূর্বাভাসে নতুন সতর্কবার্তা জারি করা হতে পারে। তাই জনসাধারণকে নিয়মিত আবহাওয়ার বুলেটিন অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।