{{ news.section.title }}
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী
দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। সর্বশেষ সমন্বয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ কিনতে এখন ক্রেতাকে গুনতে হবে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা।
সোমবার (২৫ মে) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণের নতুন দাম ঘোষণা করে বাজুস। নতুন দর একই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়। শুক্রবার (২৯ মে) দেশের বাজারে সেই নির্ধারিত দামেই স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বাড়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ২৩ মে স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৩ টাকা করা হয়েছিল। তবে দুই দিনের ব্যবধানে আবার একই পরিমাণ দাম বাড়ানো হলো।
নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা।
তবে ক্রেতাদের মনে রাখতে হবে, ঘোষিত দামের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত হবে। ফলে গহনা কিনতে গেলে ভরিপ্রতি প্রকৃত খরচ ঘোষিত দামের চেয়ে বেশি পড়বে। গহনার নকশা, কারুকাজ ও মানভেদে মজুরির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
চলতি বছর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বারবার ওঠানামা করেছে। এখন পর্যন্ত ৬৯ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৩২ বার কমানো হয়েছে। বৈশ্বিক বাজারে দামের পরিবর্তন, ডলারের বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের সরবরাহ পরিস্থিতি এসব ওঠানামার পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব দেশের স্বর্ণের দামে দ্রুত পড়ে। বাংলাদেশে স্বর্ণের বাজার অনেকটাই আমদানিনির্ভর হওয়ায় বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে বা ডলার শক্তিশালী হলে স্থানীয় বাজারেও দাম বাড়ে। আবার আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতন হলে কিছু সময় পর দেশের বাজারেও তার প্রভাব দেখা যায়।
ঈদের আগে স্বর্ণের দাম বাড়ায় ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ পড়েছে। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুম, ঈদ উপলক্ষে উপহার এবং পারিবারিক প্রয়োজনের জন্য যারা স্বর্ণ কিনতে চান, তাদের এখন আগের চেয়ে বেশি খরচ করতে হবে। তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বর্ণের দাম অস্থির থাকায় ক্রেতারা প্রয়োজন অনুযায়ী হিসাব করে কেনাকাটা করছেন।
সব মিলিয়ে দেশের স্বর্ণের বাজার এখনো ওঠানামার মধ্যেই রয়েছে। নতুন দামে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা হওয়ায় ক্রেতাদের গহনা কেনার আগে ভ্যাট, মজুরি ও মোট খরচ ভালোভাবে হিসাব করে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।