{{ news.section.title }}
পদ্মা সেতু দিয়ে ছুটছে ঘরমুখো মানুষ, ৪৮ ঘণ্টায় টোল আদায় প্রায় ১০ কোটি
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষের যাত্রা বেড়েছে পদ্মা সেতু ও ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে। ঈদযাত্রার তৃতীয় দিনেও সড়কে যানবাহনের চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, সমন্বিত ব্যবস্থাপনার কারণে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের যানজটের সৃষ্টি হয়নি।
বৃষ্টি উপেক্ষা করেই বুধবার সকাল থেকে বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল ও পণ্যবাহী যানবাহন পদ্মা সেতু দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার দিকে ছুটতে দেখা গেছে। ঘরমুখো যাত্রীদের অনেকে জানিয়েছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পদ্মা সেতু ও এক্সপ্রেসওয়েতে যাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। দীর্ঘ সময় টোল প্লাজায় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না বলেও জানান তারা।
সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শেষ ৪৮ ঘণ্টায় পদ্মা সেতু দিয়ে মোট ৮৯ হাজার ৬১০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এসব যানবাহন থেকে মোট টোল আদায় হয়েছে ৯ কোটি ৮৩ লাখ ৩৯ হাজার ৮০০ টাকা। ঈদের আগে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়লেও সেতুর দুই প্রান্তে টোল আদায় কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৬ মে রাত ১২টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সেতুর মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ৩০ হাজার ৯৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ প্রান্ত থেকে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৮৭ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা। একই সময়ে জাজিরা প্রান্ত দিয়ে পারাপার হয়েছে ১৫ হাজার ৫০৮টি যানবাহন। এ প্রান্ত থেকে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ৯৫০ টাকা।
সব মিলিয়ে ২৬ মে একদিনে পদ্মা সেতু দিয়ে মোট ৪৫ হাজার ৬০২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। ওই দিন মোট টোল আদায় হয়েছে ৫ কোটি ৩ লাখ ২৪ হাজার ৪৫০ টাকা।
এর আগের দিন ২৫ মে রাত ১২টা থেকে রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ২৮ হাজার ৪১৫টি যানবাহন পারাপার হয়। এ প্রান্ত থেকে টোল আদায় হয় ২ কোটি ৬৪ লাখ ২১ হাজার টাকা। একই সময়ে জাজিরা প্রান্ত দিয়ে ১৫ হাজার ৫৯৩টি যানবাহন পারাপার হয়। এ থেকে টোল আদায় হয় ২ কোটি ১৫ লাখ ৯৪ হাজার ৩৫০ টাকা।
সব মিলিয়ে ২৫ মে পদ্মা সেতু দিয়ে ৪৪ হাজার ৮টি যানবাহন চলাচল করে। ওই দিন টোল আদায় হয় ৪ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৩৫০ টাকা।
সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে টোল প্লাজার সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে অতিরিক্ত বুথ, মোটরসাইকেলের জন্য পৃথক লেন এবং ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে। এতে টোল আদায় দ্রুত হচ্ছে এবং যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হওয়ার ঝুঁকি কমেছে।
এ ছাড়া হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ, বিজিবি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সদস্যরা যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাঠে কাজ করছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা এবং সেতু কর্তৃপক্ষের সমন্বিত ব্যবস্থাপনার কারণে ঈদযাত্রায় এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ভোগান্তির খবর পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের অন্যতম প্রধান যাতায়াতপথ হওয়ায় ঈদের আগে পদ্মা সেতুতে যানবাহনের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।