ভারী বৃষ্টিতে ১৮ জেলায় বন্যার শঙ্কা, দ্রুত বাড়তে পারে নদ-নদীর পানি

ভারী বৃষ্টিতে ১৮ জেলায় বন্যার শঙ্কা, দ্রুত বাড়তে পারে নদ-নদীর পানি
ছবির ক্যাপশান, পুরনো ছবি

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এতে অন্তত ১৮ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দেশের কোনো প্রধান নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৯টার তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে অতি ভারী এবং সিলেট ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরা অঞ্চলেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি হয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশের নদ-নদীতেও পড়তে পারে।

 

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী চার দিন চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগসহ ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গের উজান এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

 

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি আগামী তিন দিন কমলেও পরে আবার বাড়তে পারে, তবে তা বিপৎসীমার নিচেই থাকবে। গঙ্গা নদীর পানি কয়েক দিন স্থিতিশীল থাকার পর বাড়তে পারে। অন্যদিকে পদ্মা নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী তিন দিনে বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের কয়েকটি পয়েন্টে নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।

 

চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সিলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানিও দ্রুত বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসব নদীর পানি বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কিছু এলাকায় বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট জেলার নদীতীরবর্তী নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলেও সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।

 

এ ছাড়া সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের মনু, ধলাই, খোয়াই, সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা এবং কংস নদীর পানিও বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসব নদীর পানি সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে, যার ফলে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিতে পারে। একই সময়ে ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের বিভিন্ন স্থানে সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে এবং আশপাশের নিচু এলাকা প্লাবিত হতে পারে।

 

সর্বশেষ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দেশের কোনো নদী এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে না। পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি পানি পরিমাপ কেন্দ্রের মধ্যে ৩৮টিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, ৮৬টিতে কমেছে এবং তিনটিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

 

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ২৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রামে। এছাড়া নারায়ণহাটে ১৬৫ মিলিমিটার, টেকনাফে ১৫৮ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ১২৯ মিলিমিটার, রামগড়ে ১০৫ মিলিমিটার এবং বান্দরবানে ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ভারতের মেঘালয়ের মাওকিরওয়াতে ১৫৩ মিলিমিটার, কে এম সোহরায় ১৪১ মিলিমিটার এবং চেরাপুঞ্জিতে ১৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

 

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত এবং দেশের উত্তর-পূর্ব, পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েক দিনে নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


সম্পর্কিত নিউজ