{{ news.section.title }}
ঈদের ছুটি শেষ আজ, কর্মস্থলে ফিরছেন মানুষ
পবিত্র ঈদুল আজহার টানা সাত দিনের ছুটি শেষ হচ্ছে আজ রবিবার। দীর্ঘ ছুটি শেষে আগামীকাল সোমবার থেকে খুলছে সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত, ব্যাংক-বিমা প্রতিষ্ঠান ও পুঁজিবাজার। ফলে ঈদ উদযাপন শেষে কর্মস্থলে যোগ দিতে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ।
এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়। সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস এই ছুটির আওতায় ছিল। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করা এবং সাধারণ মানুষকে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের সুযোগ দিতে টানা সাত দিনের ছুটি কার্যকর করা হয়। ছুটির আগে ২৩ মে শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও অফিস করেন চাকরিজীবীরা।
ছুটির শেষ দিনে রাজধানীর প্রধান প্রবেশপথগুলোতে ধীরে ধীরে মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাস, ট্রেন ও ব্যক্তিগত গাড়িতে ঢাকায় ফিরছেন কর্মজীবীরা। তবে এখনো অতিরিক্ত ভিড় বা বড় ধরনের চাপ দেখা যায়নি। অনেকেই প্রথম কর্মদিবসের আগে ঢাকায় ফিরতে রবিবারকেই বেছে নিয়েছেন, যাতে সোমবার নির্ধারিত সময়ে অফিসে যোগ দেওয়া যায়।
কমলাপুর রেলস্টেশনেও দেখা গেছে ঈদ-পরবর্তী ফিরতি যাত্রার চিত্র। ভোর থেকে একের পর এক ট্রেন রাজধানীতে পৌঁছেছে। যাত্রীরা জানিয়েছেন, বেশির ভাগ ট্রেনে তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক পরিবেশে ভ্রমণ করা গেছে। তবে কয়েকটি রুটে ট্রেন বিলম্বের অভিযোগও পাওয়া গেছে। বিশেষ করে নেত্রকোনা, জামালপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের কিছু ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে ঢাকায় পৌঁছেছে। যাত্রীদের ভাষ্য, সিঙ্গেল লাইনে একাধিক ট্রেনের ক্রসিংয়ের কারণে এই বিলম্ব হয়েছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, আজ দেশের বিভিন্ন গন্তব্য থেকে ৪৩টি আন্তঃনগর এবং ২৩টি লোকাল, মেইল ও কমিউটার ট্রেনসহ মোট ৬৬টি ট্রেন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফিরবে। সোমবার থেকে এর সঙ্গে প্রতিদিন একটি করে ঈদ স্পেশাল ট্রেন যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ধাপে ধাপে রাজধানীমুখী যাত্রীর চাপ সামাল দেওয়া সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীমুখী মানুষের ফিরতি যাত্রা শুরু হওয়ায় ঢাকার সড়কগুলোতেও যানবাহনের চাপ বাড়ছে। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে অফিসপাড়ায় কর্মব্যস্ততা তুলনামূলক কম থাকতে পারে। অনেক প্রতিষ্ঠান প্রথম দিন সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালায় এবং সহকর্মীদের মধ্যে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়েই দিনটি কাটে।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও সোমবার থেকে স্বাভাবিক লেনদেন শুরু হবে। ঈদের আগে কিছু ব্যাংক সীমিত পরিসরে খোলা থাকলেও দীর্ঘ ছুটি শেষে দেশের সব ব্যাংক আবার নিয়মিত কার্যক্রমে ফিরবে। একই সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে নিয়মিত লেনদেন চালু হবে। এতে আর্থিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে।
দীর্ঘ ছুটি শেষে প্রশাসনিক কার্যক্রম, আদালতপাড়া, ব্যাংকিং সেবা ও পুঁজিবাজারে প্রথম দিন কিছুটা চাপ থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ছুটির সময়ে জমে থাকা দাপ্তরিক কাজ, আর্থিক লেনদেন ও সেবাপ্রত্যাশীদের উপস্থিতি বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে ঈদের আমেজ কাটিয়ে সোমবার থেকে আবার কর্মব্যস্ততায় ফিরবে দেশ। কর্মস্থলমুখী মানুষের ফেরার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানী ঢাকাও ধীরে ধীরে আগের চেনা রূপে ফিরতে শুরু করেছে।