বিদ্যুতের দাম বাড়ালো সরকার, কতটা বাড়ল আপনার বিল?

বিদ্যুতের দাম বাড়ালো সরকার, কতটা বাড়ল আপনার বিল?
ছবির ক্যাপশান, এআই ছবি

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু গ্রাহকের মাসিক বিলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং শিল্প, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতেও এর প্রতিফলন দেখা যেতে পারে। তাই বিদ্যুতের নতুন দর নির্ধারণের ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ের বিদ্যুতের দাম বাড়াল সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য ১ দশমিক ৩৯ টাকা, সঞ্চালন চার্জ ৮ পয়সা এবং খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিটে ১ দশমিক ৫২ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

 

বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

 

সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, গণশুনানি, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রস্তাব, উৎপাদন ব্যয়, আমদানি ব্যয়, সঞ্চালন ও বিতরণ খরচ এবং সরকারের ভর্তুকির সক্ষমতা বিবেচনা করেই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, এলএনজি ও জ্বালানি তেল আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপও এ সিদ্ধান্তের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানান তিনি।

 

নতুন আদেশ অনুযায়ী, বিদ্যুতের পাইকারি দাম প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় ৭ টাকা থেকে বেড়ে ৮ দশমিক ৩৯ টাকায় উন্নীত হয়েছে। একই সঙ্গে সঞ্চালন চার্জ দশমিক ৩১৩৫ টাকা থেকে বেড়ে দশমিক ৩৮৮৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ সঞ্চালন খাতে প্রতি ইউনিটে প্রায় ৮ পয়সা অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হয়েছে।

 

অন্যদিকে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় খুচরা মূল্য প্রতি ইউনিট ৯ দশমিক ১১ টাকা থেকে বেড়ে ১০ দশমিক ৬৩ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফলে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতের গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের খরচ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং উৎপাদনমুখী খাতগুলোতে এর প্রভাব পড়তে পারে।

 

বিইআরসি জানিয়েছে, বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের পরও সরকারকে বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। অর্থাৎ মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের প্রকৃত ব্যয়ের পুরোটা গ্রাহকদের ওপর চাপানো হচ্ছে না।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, ডলার সংকট, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের উচ্চ মূল্য এবং ক্যাপাসিটি চার্জসহ বিভিন্ন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ খাতে আর্থিক চাপ বেড়েছে। সেই চাপ সামাল দিতেই সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা ধাপে ধাপে মূল্য সমন্বয়ের পথে হাঁটছে।

 

তবে নতুন মূল্যহার কার্যকরের ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ও কিছুটা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। ফলে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব আগামী দিনে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর কতটা পড়ে, সেদিকেও নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।


সম্পর্কিত নিউজ