{{ news.section.title }}
দূষণের শীর্ষে জাকার্তা, তালিকায় কত নম্বরে ঢাকা?
জলবায়ু পরিবর্তন, দ্রুত নগরায়ণ এবং শিল্পায়নের প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে দিন দিন বাড়ছে বায়ুদূষণের মাত্রা। দীর্ঘদিন ধরেই দূষিত বাতাসের সমস্যায় ভুগছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। তবে আজ কিছুটা স্বস্তির খবর মিলেছে। বিশ্বের অন্যতম দূষিত শহর হিসেবে পরিচিত ঢাকা বর্তমানে ‘সহনীয়’ বা ‘মধ্যম’ পর্যায়ের বায়ুমান নিয়ে অবস্থান করছে।
রোববার (২১ জুন) সকাল ৮টার তথ্য অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তালিকায় বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৫তম। এ সময় রাজধানীর এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ছিল এমন পর্যায়ে, যা ‘মধ্যম’ বা ‘সহনীয়’ বায়ুমান হিসেবে বিবেচিত হয়।
এদিন বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে ছিল ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। শহরটির একিউআই স্কোর ছিল ১৭০, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ের বায়ুমান নির্দেশ করে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বাহরাইনের রাজধানী মানামার স্কোর ছিল ১৫৩। ভারতের কলকাতা ১৫১ স্কোর নিয়ে তৃতীয়, পাকিস্তানের লাহোর ১৪৫ স্কোর নিয়ে চতুর্থ এবং কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা ১৪২ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, একিউআই স্কোর ০ থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুমান ‘ভালো’ হিসেবে ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোরকে ‘মধ্যম’ বা ‘সহনীয়’ বলা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। আর ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর হলে তা সাধারণ মানুষের জন্যও ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পড়ে। ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০০-এর বেশি স্কোরকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে ধরা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকায় বায়ুদূষণের প্রধান উৎস হচ্ছে ইটভাটা, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলাবালি এবং অপরিকল্পিত নগর উন্নয়ন। শুষ্ক মৌসুমে এসব দূষণের মাত্রা আরও বেড়ে যায়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করে।
চিকিৎসকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় দূষিত বাতাসে অবস্থান করলে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ফুসফুসের রোগ, হৃদরোগসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং আগে থেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব অনেক বেশি।
যদিও আজ ঢাকার বায়ুমান তুলনামূলকভাবে সহনীয় অবস্থায় রয়েছে, তবুও পরিবেশবিদরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে রাজধানীবাসীকে ভবিষ্যতে আরও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখোমুখি হতে হতে পারে। তাই দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশবান্ধব নগর পরিকল্পনা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করছেন সংশ্লিষ্টরা।