দুই বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা চালু করলো ভারত

দুই বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা চালু করলো ভারত
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশিদের জন্য মানবিক বিবেচনায় মেডিকেল ভিসা চালু থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, আপাতত সীমিত পরিসরে ট্যুরিস্ট ভিসা কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে সব ভিসা সেন্টার চালু করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র (ক্রেডেনসিয়াল) পেশ করার পর এ কথা জানান দীনেশ ত্রিবেদী।

 

তিনি বলেন, মানবতার কথা বিবেচনা করেই বাংলাদেশিদের জন্য চিকিৎসা ভিসা অব্যাহত রাখা হবে। পাশাপাশি ঢাকার দুটি এবং চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনার মোট পাঁচটি ভিসা সেন্টারের মাধ্যমে আপাতত ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়া হবে। ধীরে ধীরে অন্যান্য কেন্দ্রও চালু করা হবে।

 

রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। পরে ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (আইভ্যাক)-এর এক অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশিদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন।

 

এর আগে গত ১২ জুন পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। শূন্যরেখায় তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভারতীয় হাইকমিশন ও বেনাপোল স্থলবন্দরের প্রতিনিধিরা। এরও আগে ৫ জুন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রেডেনসিয়াল গ্রহণ করেন।

 

ভারতের জাতীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ দীনেশ ত্রিবেদীর জন্ম ১৯৫০ সালে নয়াদিল্লিতে। গুজরাটি বংশোদ্ভূত হলেও তার বেড়ে ওঠা কলকাতায়। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে বাণিজ্যে স্নাতক এবং যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

 

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কংগ্রেস, জনতা দল ও তৃণমূল কংগ্রেসে সক্রিয় থাকার পর ২০২১ সালে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গ থেকে একাধিকবার রাজ্যসভা ও লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভায় রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

 

চলতি বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশে ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে তার নিয়োগের ঘোষণা দেয় নয়াদিল্লি। তিনি প্রণয় কুমার ভার্মারের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

 

সাধারণত এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদে পেশাদার কূটনীতিকদের নিয়োগ দেওয়া হলেও এবার একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে দায়িত্ব দিয়েছে ভারত সরকার। ফলে নিয়োগটিকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

 

বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ ও ‘পদ্ধতিগত পুশব্যাক’ ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দীনেশ ত্রিবেদীর দায়িত্ব গ্রহণকে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে প্রায় দুই বছর ধরে বাংলাদেশিদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা কার্যক্রম স্থগিত রেখেছিল ভারত। তবে চিকিৎসা ও বাণিজ্যিক ভিসা সীমিত পরিসরে চালু ছিল।


সম্পর্কিত নিউজ