{{ news.section.title }}
উজানের ঢল ও ভারি বৃষ্টিতে নদীর পানি বাড়ছে, ৯ জেলায় বন্যার শঙ্কা
টানা ভারি বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের প্রভাবে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
রোববার (১৯ জুলাই) প্রকাশিত বন্যা পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বা স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। এসব এলাকায় বসতবাড়ি, ফসলি জমি, গ্রামীণ সড়ক এবং নিম্নাঞ্চলের জনপদ পানিতে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) এবং মারকুলি (সুনামগঞ্জ) স্টেশনে পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী দুই দিনে দেশের রংপুর ও সিলেট বিভাগ এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আরও বাড়বে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর আরও কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। যেসব এলাকায় আগে থেকেই পানি জমে রয়েছে, সেখানে বন্যা পরিস্থিতি আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
এদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় স্থিতিশীল থাকলেও যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বাপাউবোর পূর্বাভাস বলছে, আগামী পাঁচ দিন যমুনা অববাহিকায় পানি বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ২০ থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এতে চরাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী নিম্নভূমিতে পানি প্রবেশ করে স্থানীয়ভাবে প্লাবনের সৃষ্টি হতে পারে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সারিগোয়াইন, যাদুকাটা ও কংস নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল থাকলেও সোমেশ্বরী ও ভুগাই নদীর পানি বাড়ছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে এই নদীগুলোর পানিও আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে নেত্রকোণার সোমেশ্বরী নদীর কিছু স্থানে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে জেলার সীমান্তবর্তী ও নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলের আপার করতোয়া, আপার আত্রাই, টাঙ্গন, পুনর্ভবা, মহানন্দা ও যমুনেশ্বরী নদীর পানিও বাড়ছে। এসব নদীর পানি আগামী তিন দিন পর্যন্ত আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এর ফলে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী এলাকার কিছু নিম্নাঞ্চলে পানি জমে স্থানীয় জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ওপর সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী কয়েকদিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক স্থানে মাঝারি থেকে ভারি এবং কোথাও কোথাও অতি ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এই অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত উজানের ঢলের সঙ্গে মিলিত হয়ে নদ-নদীর পানি আরও দ্রুত বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্পমেয়াদি হলেও এসব বন্যা কৃষি, মৎস্য এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পূর্বাভাস প্রকাশ করবে।