{{ news.section.title }}
আজ কত দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা-রুপা?
দেশের বাজারে সাম্প্রতিক মূল্য সমন্বয়ের পর স্বর্ণ ও রুপা এখন তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)–এর নির্ধারিত সর্বশেষ দরে বুধবার (১৫ এপ্রিল) সারা দেশে এই দুই মূল্যবান ধাতুর লেনদেন চলছে।
গত ৯ এপ্রিল বাজুস স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় ধরনের সমন্বয় আনে। সে সময় ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের ক্ষেত্রে ভরিপ্রতি ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং রুপার ক্ষেত্রে ১৭৫ টাকা কমানো হয়। সংগঠনটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং স্থানীয়ভাবে তেজাবি স্বর্ণ ও রুপার দাম কমে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বর্তমানে বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকায়। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ক্ষেত্রে ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকায়।
এর মাত্র একদিন আগে, অর্থাৎ ৮ এপ্রিল স্বর্ণের দামে বড় উল্লম্ফন দেখা গিয়েছিল। সে সময় ভরিপ্রতি ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকায় উন্নীত করা হয়। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে বাজারে দামের ওঠানামা ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার বাজারেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৭১৫ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপা ৫ হাজার ৪২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৪৯৯ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।
বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের বাজারে বেশ অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। চলতি বছরে ইতোমধ্যে ৫৪ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে-এর মধ্যে ৩১ বার দাম বেড়েছে এবং ২৩ বার কমেছে। একই সময়ে রুপার দাম ৩৩ দফা পরিবর্তন হয়েছে, যেখানে ১৮ বার বেড়েছে এবং ১৫ বার কমেছে।
আরো পড়ুন : দেশের বাজারে সোনার দামে বড় পতন, ভরিতে কত আজ?
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনীতি, ডলারের বিনিময় হার, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদে ঝোঁক-এসব কারণ স্বর্ণের দামে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে যুদ্ধ বা অনিশ্চয়তার সময় স্বর্ণের চাহিদা বাড়লেও, সাম্প্রতিক কিছু বাজার সমন্বয় ও সরবরাহ পরিস্থিতির কারণে দাম কিছুটা কমার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমান দর স্থিতিশীল থাকলে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়তে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন কোনো অস্থিরতা দেখা দিলে স্বর্ণ ও রুপার দামে আবারও পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।