ঢাকা-সিলেট ডাবল রেললাইন হবে: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা-সিলেট ডাবল রেললাইন হবে: প্রধানমন্ত্রী
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-সিলেট রেলপথে ডাবল লাইন চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (২ মে) দুপুরে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে তিনি এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যার অংশ হিসেবে ঢাকা-সিলেট রেলপথকে ডাবল লাইনে উন্নীত করা হবে।

সমাবেশে তারেক রহমান সিলেটের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সিলেট একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল, যা দেশের অর্থনীতি, পর্যটন ও প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। তাই এই অঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রেলপথে ডাবল লাইন চালু হলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ হবে। এতে করে ঢাকার সঙ্গে সিলেটের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি আসবে।

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু রেল নয়, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও সরকার সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়নসহ বিভিন্ন সড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে যাতায়াতের সময় কমবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও হ্রাস পাবে।

 

সিলেট নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যা নিয়েও তিনি কথা বলেন। সুরমা নদীর তীরে যে বন্যা প্রতিরোধ ও সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে নগরবাসী দীর্ঘদিনের জলজট ও বন্যা সমস্যার সমাধান পাবে বলে তিনি আশা করেন। তিনি বলেন, “এই প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে সিলেট শহরে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না-এমনটাই আমাদের লক্ষ্য।”

 

এছাড়া কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় খাল খনন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, খাল ও জলাশয়গুলো পুনরুদ্ধার করা হলে প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ ঠিক থাকবে, যা বন্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

এর আগে সকালে সিলেট সফরের অংশ হিসেবে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেন। পরে সুরমা নদীর তীরে গিয়ে বন্যা প্রতিরোধী ও সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

 

সব মিলিয়ে, সিলেট অঞ্চলের যোগাযোগ, অবকাঠামো, পরিবেশ ও নাগরিক সুবিধা উন্নয়নে সরকার যে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, তা এ সমাবেশে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সিলেট একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত হবে।


সম্পর্কিত নিউজ