সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, ভিসা বাতিল, রেফারি ফেরত, বিশ্বকাপে কী চলছে?

সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, ভিসা বাতিল, রেফারি ফেরত, বিশ্বকাপে কী চলছে?
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ

২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই বড় আলোচনায় এসেছে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ সংক্রান্ত জটিলতা। গত ৪৮ ঘণ্টায় একের পর এক ফুটবলার, কর্মকর্তা, রেফারি, দলীয় স্টাফ এবং সমর্থকের ভিসা ও প্রবেশ অনুমতি নিয়ে যে অভিযোগ সামনে এসেছে, তা টুর্নামেন্টের আয়োজন ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ, ভিসা বিলম্ব, প্রবেশ প্রত্যাখ্যান এবং নিরাপত্তা তল্লাশির ঘটনাকে ঘিরে বিশ্ব ফুটবলে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের ফুটবলার ব্রিল এম্বোলোর ভিসা পর্যালোচনায় রাখা হয়। এ কারণে তিনি নির্ধারিত সময়ে দলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে যোগ দিতে পারেননি। কয়েক দিন পর তিনি দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার সুযোগ পান। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে একজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারের ভিসা বিলম্ব দলের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

ইরাক জাতীয় দলের ফুটবলার আয়মেন হুসেইন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় প্রায় ৭ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ সময় আটকে রাখার বিষয়টি ইরাকি ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে। আয়মেন হুসেইন দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হওয়ায় ঘটনাটি শুধু প্রশাসনিক জটিলতা নয়, মাঠের প্রস্তুতির দিক থেকেও বড় ইস্যু হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

ইরান জাতীয় দলও ভিসা প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের জটিলতায় পড়ে। জানা গেছে, তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটে কয়েক দিন ধরে তাদের ভিসা সংক্রান্ত কার্যক্রম চালাতে হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র তাদের শুধু ম্যাচের দিনগুলোতে প্রবেশের অনুমতি দেয়। আরও বড় বিষয় হলো, ইরানি প্রতিনিধিদলের ১৫ জন সদস্যকে ভিসা দেওয়া হয়নি। এর ফলে দলীয় প্রস্তুতি, লজিস্টিকস এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ে বড় চাপ তৈরি হয়েছে।

 

আফ্রিকান ফুটবলেও এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালের সেরা আফ্রিকান রেফারি হিসেবে সিএএফের স্বীকৃতি পাওয়া ওমর আবদুলকাদির আরতান যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি বলে জানা গেছে। তিনি কূটনৈতিক পাসপোর্ট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেলেও তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং ফেরত পাঠানো হয়েছে। ফিফা পরে জানায়, তিনি টুর্নামেন্টে ম্যাচ পরিচালনা করতে পারবেন না। একজন স্বীকৃত আন্তর্জাতিক রেফারির ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ফুটবল প্রশাসনের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

 

দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলও পরিকল্পনা অনুযায়ী সময়মতো যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে পারেনি। দলের প্রতিনিধিদলের একাংশ ভিসা না পাওয়ায় তাদের যাত্রা বিলম্বিত হয়। বিশ্বকাপের আগে অনুশীলন, পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং টিম মিটিংয়ের মতো বিষয়গুলোতে সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই এমন বিলম্ব দলীয় প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

সেনেগাল জাতীয় দলের স্টাফদের ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা তল্লাশি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তাদের জুতা খুলতে বাধ্য করা হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালানো হয়। ঘটনাটি ঘিরে বর্ণবৈষম্যের অভিযোগও উঠেছে। আফ্রিকান প্রতিনিধিদের প্রতি আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

 

উজবেকিস্তান জাতীয় দলকে বোমা শনাক্তকারী কুকুর দিয়ে তল্লাশি করার ফুটেজ আন্তর্জাতিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, বিশ্বকাপের দলগুলোর সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে কি কোনো অভিন্ন ও সম্মানজনক প্রটোকল অনুসরণ করা হচ্ছে?

 

শুধু খেলোয়াড় বা কর্মকর্তারাই নন, সমর্থকরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। কিছু স্কটিশ সমর্থক ভিসা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাওয়ার কথা ছিল, কারণ তারা ইএসটিএ কর্মসূচির আওতায় যোগ্য ছিলেন। কিন্তু যাত্রার কয়েক দিন আগে তাদের ভ্রমণ অনুমোদন বাতিল হয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে অনেকে শেষ মুহূর্তে সফর বাতিল করতে বাধ্য হন।

 

এ ছাড়া বহু সমর্থক আগেই ম্যাচের টিকিট কিনেছিলেন, হোটেল বুকিং ও বিমান টিকিটের খরচও দিয়েছিলেন। কিন্তু ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান হওয়ায় তারা আর যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেননি। এতে তাদের বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

 

২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসরগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু ভিসা ও প্রবেশ প্রক্রিয়া নিয়ে ধারাবাহিক অভিযোগ আয়োজকদের জন্য বড় চাপ তৈরি করেছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, বিশ্বকাপ কি শুধু মাঠের খেলা, নাকি এর সফলতা নির্ভর করছে সীমান্ত, ভিসা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার ওপরও?


সম্পর্কিত নিউজ