বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে ‘রাজনীতির শিকার’ হচ্ছে ইরান

বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে ‘রাজনীতির শিকার’ হচ্ছে ইরান
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

ভিসা জটিলতা ও রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিতে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় পৌঁছেছে ইরান ফুটবল দল। তবে দলটির অন্তত ১৫ জন কর্মকর্তা এখনও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না পাওয়ায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফুটবল বিশ্বে আবারও ‘খেলার মাঠে রাজনীতির প্রভাব’ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশ্বকাপ আয়োজনের যৌথ তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো হলেও ইরানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রক্রিয়া জটিলতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। যদিও খেলোয়াড়রা ভিসা পেলেও দলের প্রশাসনিক ও সহায়ক স্টাফদের একটি বড় অংশ সেই অনুমতি পাননি।

 

স্থানীয় সময় ভোরে ইরান দল তিহুয়ানা বিমানবন্দরে পৌঁছালে কিছু সমর্থক তাদের স্বাগত জানান। ইরানের জার্সি পরিহিত সমর্থক সাদেঘ গালাভি বলেন, “আমার জাতীয় দল আমার শহরে এসেছে। তাদের স্বাগত জানাতে পারা আমার জন্য গর্বের।”

 

তবে বিশ্বকাপ যাত্রার শুরুতেই ইরান দলকে ঘিরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজসহ প্রায় ১৫ জন কর্মকর্তা ও সহায়ক কর্মীর ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বা প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় আটকে রয়েছে।

 

এই পরিস্থিতিকে ‘খেলাধুলার ওপর রাজনৈতিক প্রভাব’ হিসেবে উল্লেখ করে সমালোচনা করেছেন সমর্থক ও বিশ্লেষকরা। সাদেঘ গালাভি বলেন, “খেলাধুলা শান্তির প্রতীক হওয়া উচিত। যখন রাজনীতি ও খেলাধুলা একসঙ্গে মিশে যায়, তখন সেটি ভালো ফল বয়ে আনে না।”

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তেজনা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইভেন্টে অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

শেষ পর্যন্ত ফিফার হস্তক্ষেপ ও অবস্থানের কারণে ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। তবে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনায় ইরান তাদের পূর্বনির্ধারিত প্রস্তুতি ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের টাকসন থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় স্থানান্তর করে।

 

বিশ্বকাপে ইরান রয়েছে শক্তিশালী গ্রুপে-নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম ও মিসরের বিপক্ষে তাদের গ্রুপ পর্বের লড়াই অনুষ্ঠিত হবে। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ ইতিহাসে ইরান কখনোই গ্রুপ পর্বের বাধা অতিক্রম করতে পারেনি। তবে এবার সংকট ও চাপের মধ্যেও দলটি নতুন করে ভালো করার প্রত্যাশা করছে।

 

ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো থেকে আসা ইরানি-আমেরিকান সমর্থক সিনা মোঘাদ্দাম বলেন, “ইরানের ইতিহাস হাজার বছরের। এ ধরনের পরিস্থিতি আমাদের আরও শক্তিশালী করে, দুর্বল নয়।”

 

দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিহুয়ানায় নেওয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা। সশস্ত্র পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর উপস্থিতিতে দলকে হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। অনুশীলন ভেন্যু এস্তাদিও কালিয়েন্তের আশপাশেও বাড়তি নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে।এদিকে লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ছেলেকে নিয়ে তিহুয়ানায় আসা আরেক সমর্থক হোসেইন নিকইয়ার বলেন, “ফিফা বলে বিশ্বকাপে রাজনীতির কোনো জায়গা নেই, সবই ফেয়ার প্লে। কিন্তু বাস্তবে আমরা ভিন্ন চিত্রই দেখছি।”

 

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই পরিস্থিতি শুধু একটি দলের ভিসা সমস্যাই নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে রাজনৈতিক প্রভাবের বাস্তবতাকেই আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।


সম্পর্কিত নিউজ