{{ news.section.title }}
২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করল ঘানা
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে আফ্রিকার শক্তিশালী দল ঘানা। প্রাথমিক ২৮ সদস্যের দল থেকে শেষ মুহূর্তে বাদ পড়েছেন সলোমন আগবাসি ও পল রিভারসন। অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রেখে দল সাজিয়েছেন প্রধান কোচ কার্লোস কুইরোজ।
বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে জ্যামাইকার মুখোমুখি হবে ঘানা। এরপর ১১ জুন উত্তর আমেরিকায় শুরু হওয়া বিশ্বকাপে মাঠে নামবে ‘ব্ল্যাক স্টারস’রা। তাদের লক্ষ্য থাকবে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া এবং অতীতের সাফল্যের পুনরাবৃত্তি ঘটানো।
গ্রুপ ‘এল’-এ কঠিন চ্যালেঞ্জ, প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া
এবারের আসরে গ্রুপ ‘এল’-এ খেলবে ঘানা। এই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও পানামা। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এটি তুলনামূলকভাবে ‘গ্রুপ অব ডেথ’-এর কাছাকাছি একটি গ্রুপ, যেখানে প্রতিটি ম্যাচই হবে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার মতো ইউরোপীয় পরাশক্তির বিপক্ষে ভালো ফল করতে হলে ঘানাকে সর্বোচ্চ মানের শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দ্রুতগতির ফুটবল খেলতে হবে। বিশেষ করে কাউন্টার অ্যাটাক এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণই হতে পারে ঘানার প্রধান অস্ত্র।
ঘানার বিশ্বকাপ ইতিহাস ও লক্ষ্য
ঘানা এর আগে বিশ্বকাপে একাধিকবার অংশ নিয়েছে এবং ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে ইতিহাস গড়েছিল, যা এখনো আফ্রিকার অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত। এবারের আসরে দলটির লক্ষ্য অন্তত গ্রুপ পর্ব পার হওয়া। কোচিং স্টাফদের মতে, অভিজ্ঞতা ও তরুণ প্রতিভার সমন্বয় ঘানাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থানে রাখতে সাহায্য করবে।
বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ও কৌশলগত পরিকল্পনা
বিশ্বকাপের আগে জ্যামাইকার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে ঘানা। কোচ কার্লোস কুইরোজ জানিয়েছেন, এই ম্যাচের মাধ্যমে তিনি প্রথম একাদশ, ডিফেন্সিভ কম্বিনেশন এবং আক্রমণভাগের সমন্বয় পরীক্ষা করবেন। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ঘানার মূল শক্তি হলো দ্রুতগতির উইঙ্গার এবং শারীরিকভাবে শক্তিশালী মিডফিল্ড। তবে ডিফেন্সিভ ভুল এবং ধারাবাহিকতার অভাব অতীতে তাদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বকাপে ঘানার চূড়ান্ত স্কোয়াড
গোলকিপারঃ
বেঞ্জামিন আসারে, লরেন্স আতি-জিগি, জোসেফ আনং।
ডিফেন্ডারঃ
ডেরিক লুকাশেন, আব্দুল মুমিন, জোনাস আদজেতেই, গিডিয়ন মেনসাহ, বাবা রহমান, আলিডু সাইডু, কোজো পেপরাহ ওপং, জেরোম ওপোকু, মারভিন সেনায়া।
মিডফিল্ডারঃ
থমাস পার্টেই, কোয়াসি সিবো, এলিশা ওয়াসু, ক্যালেব ইয়ারেনকি, অগাস্টিন বোয়াকি।
ফরোয়ার্ডঃ
জর্ডান আইয়ু, ইনাকি উইলিয়ামস, আন্তোইন সেমেনিয়ো, ফাতাউ ইসাহাকু, কামালদিন সুলেমানা, প্রিন্স অদু কোয়াবেনা, আর্নেস্ট নুয়ামাহ, ক্রিস্টোফার বনসু বাহ, ব্র্যান্ডন থমাস-আসান্ট।
তারকাদের ওপর ভরসা ও শক্তি-দুর্বলতা
দলের সবচেয়ে বড় ভরসা হিসেবে থাকছেন মিডফিল্ডার থমাস পার্টেই এবং আক্রমণভাগে জর্ডান আইয়ু ও কামালদিন সুলেমানা। স্প্যানিশ ও ইংলিশ লিগে খেলা একাধিক ফুটবলার থাকায় অভিজ্ঞতার দিক থেকে দলটি তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী।তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় টুর্নামেন্টে চাপ সামলানো এবং রক্ষণভাগের সমন্বয় ঘানার জন্য এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।
ফিফা বিশ্বকাপ সবসময়ই বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে আফ্রিকান দলগুলোর পারফরম্যান্স নিয়ে আলাদা নজর থাকে। ঘানা যদি গ্রুপ পর্ব পার হতে পারে, তবে এটি আবারও আফ্রিকান ফুটবলের জন্য বড় অর্জন হিসেবে দেখা হবে। বিশ্বকাপে তরুণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।