বাংলাদেশের ফিফা বিশ্বকাপ সম্প্রচারের স্বত্ব পেল কোন প্রতিষ্ঠান?

বাংলাদেশের ফিফা বিশ্বকাপ সম্প্রচারের স্বত্ব পেল কোন প্রতিষ্ঠান?
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল মানেই উন্মাদনা, আর বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই কোটি মানুষের আবেগের মহাযজ্ঞ। চার বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও দুয়ারে কড়া নাড়ছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে আর বেশি দিন বাকি নেই। এর মধ্যেই বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এসেছে বড় সুখবর। দেশের শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলালিংক ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ডিজিটাল সম্প্রচার স্বত্ব পেয়েছে।

বাংলালিংকের নিজস্ব অনলাইন ভিডিও সেবা ‘টফি’র মাধ্যমে বাংলাদেশের দর্শকরা বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন। আজ বুধবার নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলালিংক।

 

পোস্টে জানানো হয়েছে, বাংলালিংক গ্রাহকরা টফি অ্যাপের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো সরাসরি দেখতে পারবেন। তবে এই সুবিধা পেতে দর্শকদের নির্দিষ্ট প্যাক কিনতে হবে। অর্থাৎ যারা মোবাইল বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে খেলা দেখতে চান, তাদের জন্য টফি হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ দেখার অন্যতম বড় প্ল্যাটফর্ম।

 

২০২৬ বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল বিশ্বকাপ। কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র-এই তিন দেশে যৌথভাবে বসবে আসরটি। এবার প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজন করা হচ্ছে। মোট ম্যাচ হবে ১০৪টি। ফলে আগের আসরগুলোর তুলনায় এবার বিশ্বকাপের ব্যাপ্তি, ম্যাচসংখ্যা ও দর্শক আগ্রহ আরও বেশি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

বাংলাদেশে ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ সব সময়ই আলাদা। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগালসহ জনপ্রিয় দলগুলোর সমর্থকরা বিশ্বকাপ ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেন। শহর থেকে গ্রাম-সব জায়গায় পতাকা, জার্সি, দেয়ালচিত্র, বড় পর্দায় খেলা দেখা ও রাত জেগে ম্যাচ উপভোগের সংস্কৃতি বহুদিনের। ফলে বিশ্বকাপের সম্প্রচার নিয়ে যেকোনো খবর বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

স্টেডিয়ামে বসে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখার সুযোগ সবার হয় না। তাই অধিকাংশ ফুটবলপ্রেমীর ভরসা টেলিভিশন, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোবাইলে খেলা দেখার প্রবণতা দ্রুত বেড়েছে। অনেক দর্শক ঘরে, কর্মস্থলে, পথে কিংবা বাইরে থেকেও মোবাইল ফোনে সরাসরি ম্যাচ দেখতে চান। এ কারণে ডিজিটাল সম্প্রচার স্বত্ব পাওয়া দর্শকদের জন্য বড় স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

এ বিষয়ে বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, ডিজিটাল সম্প্রচার স্বত্ব পাওয়ার মাধ্যমে দেশের কোটি কোটি ফুটবল সমর্থক এখন যেকোনো স্থান থেকে উচ্চমানের স্ট্রিমিং সুবিধায় খেলা উপভোগ করতে পারবেন। বাংলালিংকের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ও টফির উন্নত প্রযুক্তি দর্শকদের নিরবচ্ছিন্ন সম্প্রচার দেখার দারুণ অভিজ্ঞতা দেবে।

 

বাংলালিংক ও টফির জন্য এটি নতুন অভিজ্ঞতা নয়। এর আগেও বড় ক্রীড়া আসর সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে টফি দেশের দর্শকদের মধ্যে পরিচিতি পেয়েছে। বিশেষ করে মোবাইলভিত্তিক খেলা দেখার ক্ষেত্রে টফি ধীরে ধীরে একটি জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। তাই বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে টফির মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার দর্শকদের জন্য সহজ ও দ্রুততর অভিজ্ঞতা এনে দিতে পারে।

 

তবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের স্বত্ব নিশ্চিত হলেও টেলিভিশনের মাধ্যমে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের বিষয়টি এখনো পুরোপুরি চূড়ান্তভাবে ঘোষণা হয়নি। এ কারণে যারা টিভি পর্দায় খেলা দেখতে চান, তারা এখন সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন।

 

বাংলাদেশে বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। সম্প্রচার স্বত্ব, খরচ, অংশীদার প্রতিষ্ঠান এবং দর্শকপ্রাপ্যতা নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। তবে ডিজিটাল সম্প্রচার স্বত্বের খবর ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে স্বস্তি এনেছে। বিশেষ করে যারা মোবাইল বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে খেলা দেখতে অভ্যস্ত, তাদের জন্য এটি বড় সুবিধা হবে।

 

বিশ্বকাপের মতো বড় আয়োজন শুধু খেলা নয়, এটি দর্শকদের আবেগ, আনন্দ ও সামাজিক উৎসবের অংশ। বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিশ্বকাপ মানে রাত জাগা, প্রিয় দলের জন্য উল্লাস, বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখা এবং পুরো মাসজুড়ে ফুটবল ঘিরে আলোচনা। তাই টফির মাধ্যমে সরাসরি ম্যাচ দেখার সুযোগ বিশ্বকাপের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

সব মিলিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ সামনে রেখে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা আরও জমে উঠেছে। টেলিভিশন সম্প্রচারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনো অপেক্ষায় থাকলেও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে খেলা দেখার পথ পরিষ্কার হওয়ায় দর্শকদের বড় একটি অংশ স্বস্তি পেয়েছে। এখন শুধু অপেক্ষা মাঠে বল গড়ানোর।

 

তথ্যসূত্র: বাংলালিংক


সম্পর্কিত নিউজ