বিশ্বকাপে খেলতে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেলেন ইরানের ফুটবলাররা

বিশ্বকাপে খেলতে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেলেন ইরানের ফুটবলাররা
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ কূটনৈতিক জটিলতা ও অনিশ্চয়তার পর অবশেষে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেয়েছেন ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা। ফলে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে দেশটির অংশগ্রহণ নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই দূর হয়েছে। তবে ইরান জানিয়েছে, দলের সব সদস্য এখনও ভিসা পাননি এবং কয়েকজন কর্মকর্তা এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লস অ্যাঞ্জেলসে অনুষ্ঠিতব্য ইরানের প্রথম ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে ইরানের গণমাধ্যমগুলোর দাবি, জাতীয় দলের কিছু টেকনিক্যাল স্টাফ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার আবেদন এখনো ঝুলে আছে।

 

ইরানের সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ জানিয়েছে, দলের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ভিসা না পাওয়ায় প্রস্তুতি পরিকল্পনায় কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তেহরানের অভিযোগ, বেশ কিছু আবেদন এখনো অনুমোদনের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

 

বিশ্বকাপ শুরুর আগে বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দেয়। মেক্সিকোয় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পাসান্দিদেহ কয়েকদিন আগে অভিযোগ করেছিলেন, টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকলেও দলটির সদস্যরা ভিসা না পাওয়ায় প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছিল। এরপর বিষয়টি ফুটবল অঙ্গনের পাশাপাশি কূটনৈতিক মহলেও গুরুত্ব পায়।

 

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের টানাপোড়েন এই ভিসা ইস্যুকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় খেলাধুলার ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়তে দেখা যাচ্ছে। ফলে বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরও রাজনৈতিক আলোচনার বাইরে থাকছে না।

 

ইরান শুরু থেকেই চেয়েছিল, তাদের প্রস্তুতি ক্যাম্প এবং ম্যাচ-সংক্রান্ত কার্যক্রম যতটা সম্ভব মেক্সিকোতে পরিচালিত হোক। ভিসা জটিলতার কারণেই এ ধরনের বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছিল। জানা গেছে, দলটি মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর তিজুয়ানায় প্রস্তুতি ক্যাম্প করবে, যেখানে খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপের আগে নিজেদের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করবেন।

 

বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপে থাকা ইরান তাদের অভিযান শুরু করবে ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর তারা মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম ও মিশরের। গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ভেন্যুতে।

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তিকে বিশ্বকাপ প্রতিনিধি দলের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। মার্কিন প্রশাসনের এই অবস্থান ভিসা প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক ড্র অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেননি ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় তিনি ওই অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন। অতীতে আইআরজিসির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি তখন আলোচনায় আসে।

 

তবে ইরানের কূটনৈতিক মহল বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছে। রাষ্ট্রদূত পাসান্দিদেহের মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে যে ইরান আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গনে সংলাপ, সহাবস্থান এবং শান্তিপূর্ণ সম্পর্কের পক্ষে অবস্থান করছে।

 

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ শুধু ফুটবলের লড়াই নয়; এটি বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ারও একটি বড় মাধ্যম। তাই রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকলেও ইরানের অংশগ্রহণ বিশ্বকাপের মূল চেতনা-ঐক্য, সম্প্রীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ-আরও শক্তিশালী করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।


সম্পর্কিত নিউজ