বিশ্বকাপ জিতলে কে কত টাকা পাবে?

বিশ্বকাপ জিতলে কে কত টাকা পাবে?
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

অবশেষে শেষ হলো দীর্ঘ চার বছরের অপেক্ষা। আজ রাত থেকেই শুরু হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আয়োজন ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। এরপরই বেজে উঠবে বিশ্বকাপের বাঁশি, শুরু হবে ৪৮ দলের মহাযুদ্ধ। আগামী ৩৯ দিন ফুটবলপ্রেমীদের চোখ থাকবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি স্টেডিয়ামে। ড্রিবলিং, গোল, নাটকীয়তা, আবেগ আর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে বিশ্ব খুঁজবে নতুন চ্যাম্পিয়নকে।

এবারই প্রথম ৩২ দলের পরিবর্তে ৪৮ দল নিয়ে আয়োজন করা হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। ফলে ম্যাচ সংখ্যাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪টিতে। গ্রুপ পর্ব শেষে ৪৮ দলের লড়াই নেমে আসবে ৩২ দলে। এরপর ধাপে ধাপে নির্ধারিত হবে শেষ ষোল, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং ফাইনালিস্টরা।

 

আগামী ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে অবস্থিত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। সেদিন ৬.২ কেজি ওজনের বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে বিশ্বের সেরা দল। সর্বশেষ ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে শিরোপা জিতেছিল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।

 

বিশ্বকাপ ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের অন্যতম বড় বিষয় হলো প্রাইজমানি। ফিফা ইতোমধ্যে ২০২৬ বিশ্বকাপের পুরস্কারের কাঠামো প্রকাশ করেছে। এবারের আসরে চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬১৪ কোটি টাকারও বেশি।

 

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা পেয়েছিল ৪২ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাত্র চার বছরের ব্যবধানে বিশ্বকাপজয়ী দলের পুরস্কার বেড়েছে ৮ মিলিয়ন ডলার। শতাংশের হিসাবে বৃদ্ধি প্রায় ১৯ শতাংশ।

 

শুধু চ্যাম্পিয়ন নয়, অন্যান্য দলের পুরস্কারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের রানার্সআপ দল পাবে ৩৩ মিলিয়ন ডলার। তৃতীয় স্থান অধিকারী দল পাবে ২৯ মিলিয়ন ডলার এবং চতুর্থ স্থান অর্জনকারী দল পাবে ২৭ মিলিয়ন ডলার।

 

তুলনামূলকভাবে ২০২২ বিশ্বকাপে রানার্সআপ ফ্রান্স পেয়েছিল ৩০ মিলিয়ন ডলার। তৃতীয় স্থান পাওয়া ক্রোয়েশিয়া পেয়েছিল ২৭ মিলিয়ন ডলার এবং চতুর্থ হওয়া মরক্কো পেয়েছিল ২৫ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ প্রায় সব পর্যায়েই পুরস্কারের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

এবারের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া চারটি দল পাবে ১৯ মিলিয়ন ডলার করে। শেষ ষোল বা প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে বাদ পড়া আটটি দল পাবে ১৫ মিলিয়ন ডলার করে। এছাড়া ১৭ থেকে ৩২ নম্বর অবস্থানে থাকা দলগুলো পাবে ১১ মিলিয়ন ডলার করে। এমনকি গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া দলগুলোও খালি হাতে ফিরবে না। প্রথম রাউন্ড থেকে বাদ পড়া ১৬টি দল পাবে ৯ মিলিয়ন ডলার করে।

 

ফিফা কর্মকর্তারা বলছেন, ৪৮ দলের সম্প্রসারিত এই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর আর্থিক সুবিধা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি হবে। বিশেষ করে আফ্রিকা, এশিয়া ও কনকাকাফ অঞ্চলের ছোট ফুটবল দেশগুলো এ থেকে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে।

 

প্রাইজমানির পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী ফুটবলারদের জন্য ক্লাব বেনিফিট প্রোগ্রামও বাড়ানো হয়েছে। খেলোয়াড়দের বিশ্বকাপে ছাড় দেওয়ার জন্য ক্লাবগুলোকে বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দেবে ফিফা। এতে ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর পাশাপাশি এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার ক্লাবগুলোও আর্থিকভাবে লাভবান হবে।

 

বিশ্বকাপ ২০২৬ শুধু ফুটবল নয়, অর্থনীতির দিক থেকেও নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই টুর্নামেন্ট বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রায় ৮০.১ বিলিয়ন ডলারের উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সৃষ্টি করবে। এটি ইতিহাসের সবচেয়ে লাভজনক ক্রীড়া আসর হওয়ার পথে রয়েছে।

 

অন্যদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের চার বছরের চক্রে ফিফার মোট আয় ১৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তুলনায় ২০২২ কাতার বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ফিফার আয় ছিল প্রায় ৭.৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাত্র এক বিশ্বকাপ চক্রের ব্যবধানে ফিফার সম্ভাব্য আয় বেড়েছে প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলার।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ৪৮ দলের বিশ্বকাপ, ১০৪ ম্যাচ, তিনটি আয়োজক দেশ, বড় সম্প্রচার চুক্তি, ডিজিটাল স্ট্রিমিং অধিকার, স্পনসরশিপ এবং টিকিট বিক্রির কারণে এবারের বিশ্বকাপ অর্থনৈতিক দিক থেকে নতুন মাইলফলক তৈরি করবে।

 

ফুটবলের সৌন্দর্য, আবেগ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি এবার বিশ্বকাপের আরেকটি বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে এর রেকর্ড আর্থিক মূল্য। মাঠের লড়াইয়ে কে জিতবে, কে হারবে তা সময়ই বলে দেবে। তবে আর্থিক দিক থেকে ২০২৬ বিশ্বকাপ ইতোমধ্যেই ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে সমৃদ্ধ ফুটবল আসর হিসেবে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেছে।


সম্পর্কিত নিউজ