{{ news.section.title }}
গ্রুপ জিতে নকআউটে কলম্বিয়া, দ্বিতীয় পর্তুগাল
মায়ামির তীব্র গরম আর গ্যালারিভর্তি সমর্থকদের উন্মাদনার মধ্যে মুখোমুখি হয়েছিল দুই ফুটবল মহাতারকার দল। একদিকে ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল, অন্যদিকে জেমস রদ্রিগেজের কলম্বিয়া। ‘কে’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নির্ধারণী এই লড়াইয়ে গোল না হলেও উত্তেজনার কোনো কমতি ছিল না। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয়েছে ম্যাচটি। আর এই ফলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে উঠেছে কলম্বিয়া, রানার্সআপ হয়েছে পর্তুগাল।
ফ্লোরিডার মায়ামি গার্ডেনসের হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে শুরু থেকেই ছিল নকআউটের আবহ। দুই দলই আগে থেকেই শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছিল। তবে গ্রুপ সেরা হওয়ার লড়াইয়ে কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জায়গাও ছাড় দেয়নি। ম্যাচ শুরুর আগে মাঠে নামার সময় রোনালদো ও জেমস রদ্রিগেজকে আলিঙ্গন করতে দেখা যায়। রিয়াল মাদ্রিদে একসঙ্গে খেলা দুই সাবেক সতীর্থের সেই মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে কলম্বিয়া। লুইস দিয়াজ, জন আরিয়াস, জন কর্দোবা এবং জেমস রদ্রিগেজকে ঘিরে একের পর এক আক্রমণ সাজাতে থাকে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। অন্যদিকে পর্তুগাল অপেক্ষা করছিল পাল্টা আক্রমণের জন্য।
প্রথম ১৫ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজ ও জোয়াও ফেলিক্সের সমন্বয়ে আক্রমণে ওঠে পর্তুগাল। ব্রুনোর একটি শট দারুণভাবে রুখে দেন কলম্বিয়ার গোলরক্ষক কামিলো ভার্গাস। কিছুক্ষণ পর রোনালদোর একটি প্রচেষ্টা ডেভিনসন সানচেজ ব্লক করে দেন।
এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় কলম্বিয়া। মাঝমাঠে জেমস রদ্রিগেজ দুর্দান্তভাবে খেলা পরিচালনা করেন। তাঁর পাস থেকে জন আরিয়াস কয়েকবার সুযোগ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা মেলেনি।
৩২ মিনিটে কর্দোবার একটি হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়। কয়েক মিনিট পর আরিয়াসের শট সহজেই ধরে ফেলেন পর্তুগিজ গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা। প্রথমার্ধে কলম্বিয়া একের পর এক আক্রমণ চালালেও পর্তুগালের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি।
বিরতির পর ম্যাচের গতি আরও বেড়ে যায়। রবার্তো মার্তিনেজের দল দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে। তবে রোনালদোকে খুব একটা বল জোগাতে পারেননি সতীর্থরা। পুরো ম্যাচে তিনি কার্যত বিচ্ছিন্ন ছিলেন এবং মাত্র একটি উল্লেখযোগ্য শট নিতে সক্ষম হন।
অন্যদিকে কলম্বিয়ার আক্রমণ থামানোর মূল দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন দিয়োগো কস্তা। পর্তুগালের এই গোলরক্ষক অন্তত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন, যা দলের আগের দুই ম্যাচে তাঁর মোট সেভের সংখ্যার চেয়েও বেশি। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে জন কর্দোবা এবং লুইস দিয়াজের দুটি প্রচেষ্টা অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন তিনি।
ম্যাচের ৭৬ মিনিটে গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছে যায় কলম্বিয়া। জেমস রদ্রিগেজের কর্নার থেকে ডেভিনসন সানচেজ হেডে বল জালে পাঠালেও দীর্ঘ ভিএআর পর্যালোচনার পর অফসাইডের কারণে গোল বাতিল করা হয়। এই সিদ্ধান্তে কলম্বিয়ার খেলোয়াড়রা হতাশ হলেও শেষ পর্যন্ত সেটিই ম্যাচের বড় মোড় হয়ে থাকে।
মায়ামির প্রচণ্ড গরমেও ম্যাচের গতি কমেনি। তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছায়। এমন পরিস্থিতিতে দুই দলের খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতার বড় পরীক্ষা দিতে হয়। তবে গ্যালারিতে উপস্থিত ৬৪ হাজারেরও বেশি দর্শক পুরো ম্যাচজুড়ে অসাধারণ পরিবেশ তৈরি করেন। কলম্বিয়ার সমর্থকের সংখ্যাও ছিল উল্লেখযোগ্য।
পরিসংখ্যানেও এগিয়ে ছিল কলম্বিয়া। ম্যাচে তারা ২৪টি শট নেয়, যার ছয়টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে পর্তুগাল নেয় ১৩টি শট, যার মাত্র দুটি ছিল গোলমুখে। বলের দখলেও এগিয়ে ছিল কলম্বিয়া।
গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে দুটি জয় ও একটি ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ‘কে’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কলম্বিয়া। পর্তুগাল একটি জয় ও দুটি ড্রয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হয়েছে। ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থেকে নকআউটে উঠেছে ডিআর কঙ্গো। ফলে এই গ্রুপ থেকে তিনটি দলই শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে।
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় কলম্বিয়ার প্রতিপক্ষ হয়েছে ঘানা। আগামী ৪ জুলাই বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে সেই ম্যাচ। অন্যদিকে পর্তুগালের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দলকে শেষ ৩২-এ খেলতে হবে ২০১৮ সালের রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ৩ জুলাই ভোর ৫টায়।
বিশ্বকাপে এবারই প্রথম গোলশূন্য ড্র করেছে কলম্বিয়া। একই সঙ্গে ১৯৬২ সালের পর বিশ্বকাপ ইতিহাসে তাদের একটি দীর্ঘ পরিসংখ্যানও থেমে গেছে। তবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দে সেটি খুব একটা প্রভাব ফেলেনি।
ম্যাচ শেষে পর্তুগালের মিডফিল্ডার সামু কস্তা বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ছিল জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া। আমরা সেটা করতে পারিনি।” অন্যদিকে কলম্বিয়া শিবিরে ছিল সন্তুষ্টির হাসি। কারণ ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দলকে আটকে দিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়েই নকআউটে যাচ্ছে তারা।
এ ছাড়া ৪৮ দলের বর্ধিত এই টুর্নামেন্টে অন্যতম ফেভারিট হিসেবে আসা পর্তুগাল ‘কে’ গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে মুখোমুখি হবে এল গ্রুপের রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়ার। আগামী ৩ জুলাই ভোর ৫টায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।
গোল না হলেও মায়ামির এই রাত ছিল বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াইয়ের একটি। জেমস রদ্রিগেজের সৃজনশীলতা, দিয়োগো কস্তার দুর্দান্ত গোলকিপিং এবং রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ যাত্রার আরেকটি অধ্যায়-সব মিলিয়ে ম্যাচটি হয়ে থাকল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের অন্যতম স্মরণীয় এক লড়াই।