৫২ বছর পর ইতিহাস, কঙ্গোর বিশ্বকাপে প্রথম নকআউট

৫২ বছর পর ইতিহাস, কঙ্গোর বিশ্বকাপে প্রথম নকআউট
ছবির ক্যাপশান, ছবি: রয়টার্স

আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ইতিহাস লিখেছে গণতান্ত্রিক কঙ্গো। ৬৭ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থাকার পর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকার দেশটি। ৫২ বছর আগে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে দ্বিতীয় আসরেই নতুন ইতিহাস গড়ল তারা।

ম্যাচের আগে সমীকরণ ছিল স্পষ্ট। নকআউটে যেতে হলে জয়ের বিকল্প ছিল না গণতান্ত্রিক কঙ্গোর সামনে। অন্যদিকে ইতোমধ্যেই বিদায়ের মুখে থাকা উজবেকিস্তান বিশ্বকাপ শেষ করতে চেয়েছিল একটি জয় দিয়ে। শুরুটা অবশ্য দারুণ করেছিল মধ্য এশিয়ার দেশটি।

 

ম্যাচের ১০ মিনিটেই এগিয়ে যায় উজবেকিস্তান। কঙ্গোর রক্ষণভাগের ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ কাজে লাগান দলটির অধিনায়ক এলদর শোমুরোদভ। অ্যাক্সেল তুয়ানজেবে ও অ্যারন ওয়ান-বিসাকার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা দিলে বল পেয়ে যান শোমুরোদভ। এরপর গোলরক্ষককে পরাস্ত করে উজবেকিস্তানকে এগিয়ে দেন তিনি।

 

প্রথমার্ধের বেশির ভাগ সময়ই বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল কঙ্গোর কাছে। তারা একের পর এক আক্রমণ চালালেও উজবেক গোলরক্ষক আবদুভোহিদ নেমাতভ দুর্দান্ত কিছু সেভ করে দলকে এগিয়ে রাখেন। নাথানায়েল এমবুকুর একটি জোরালো শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়। আরেকটি আক্রমণে কঙ্গো বল জালে পাঠালেও ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করা হয়।

 

বিরতির পর কঙ্গো আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। মাঝমাঠে চার্লস পিকেল, স্যামুয়েল মুতুসামি এবং মেশাক এলিয়ার সমন্বয়ে চাপ বাড়তে থাকে উজবেকিস্তানের রক্ষণে। কোচ সেবাস্তিয়ান দেশাব্রের পরিবর্তনগুলোও কাজে দিতে শুরু করে।

 

ম্যাচের ৬৭ মিনিটে অবশেষে সমতায় ফেরার সুযোগ পায় আফ্রিকান দেশটি। বক্সের ভেতরে ইয়োয়ানে উইসাকে ফাউল করেন আবদুকোদির খুসানোভ। ভিডিও সহকারী রেফারির সহায়তায় পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। ৬৮ মিনিটে স্পটকিক থেকে গোল করে সমতা ফেরান উইসা।

 

সমতায় ফেরার পর ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। গ্যালারিতে থাকা কঙ্গোর সমর্থকদের উল্লাসে নতুন উদ্যমে খেলতে শুরু করে দলটি। মাত্র ১০ মিনিট পর আসে দ্বিতীয় গোল। মেশাক এলিয়ার শট প্রতিহত হলেও ফিরতি বলে ফিস্তন মায়েলে গোল করে কঙ্গোকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

 

গোল হজমের পর উজবেকিস্তান আক্রমণে উঠলেও কঙ্গোর রক্ষণভাগ বেশ শক্ত অবস্থান নেয়। তুয়ানজেবে ও ওয়ান-বিসাকা প্রথমার্ধের ভুল কাটিয়ে দারুণভাবে ফিরে আসেন। গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসিও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সেভ করেন।

 

যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ম্যাচের শেষ আঘাতটি হানেন ইয়োয়ানে উইসা। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তাঁর নিখুঁত শট দূরের পোস্ট ঘেঁষে জালে জড়িয়ে যায়। নিজের দ্বিতীয় গোলের মাধ্যমে ৩-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন ব্রেন্টফোর্ড ফরোয়ার্ড।

 

এই জয়ের মধ্য দিয়ে ইতিহাস গড়ে গণতান্ত্রিক কঙ্গো। ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে দেশটি প্রথম অংশ নিয়েছিল। সেই আসরে তিনটি ম্যাচের সবকটিতেই হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। বিশেষ করে যুগোস্লাভিয়ার কাছে ৯-০ গোলের পরাজয় বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় হার হিসেবে এখনো স্মরণ করা হয়।

 

সেই দলের সঙ্গে বর্তমান কঙ্গোর পার্থক্য অনেক। এবার বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই তারা শক্তিশালী পর্তুগালকে ১-১ গোলে আটকে দেয়। দ্বিতীয় ম্যাচে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলে হারলেও দারুণ লড়াই করে। আর শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানকে হারিয়ে ইতিহাস রচনা করে তারা।

 

গ্রুপ ‘কে’-তে কলম্বিয়া ৭ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। পর্তুগাল ৫ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ। আর ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থান দখল করে নকআউটে উঠেছে গণতান্ত্রিক কঙ্গো। উজবেকিস্তান তিন ম্যাচে কোনো পয়েন্ট পায়নি।

 

এখন শেষ ৩২-এ তাদের সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। হ্যারি কেন, জুড বেলিংহামদের বিপক্ষে খেলতে হবে আফ্রিকার দেশটিকে। তবে যেভাবে পিছিয়ে থেকেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে কঙ্গো, তাতে ইংল্যান্ডও নিশ্চয়ই তাদের হালকাভাবে নিতে পারবে না।

 

বিশ্বকাপের এবারের আসরে কেপ ভার্দের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক কঙ্গোও হয়ে উঠেছে অন্যতম বড় চমক। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় অপেক্ষার পর বিশ্বমঞ্চে ফিরে তারা শুধু অংশগ্রহণ করেই থেমে থাকেনি, জায়গা করে নিয়েছে নকআউট পর্বেও। আর সেই কারণেই আটলান্টার এই রাতটি কঙ্গোর ফুটবল ইতিহাসে বহু বছর ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।


সম্পর্কিত নিউজ