{{ news.section.title }}
শেষ ৩২-এ পর্তুগালের প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া, ইতিহাস ডিআর কঙ্গোর
২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ দিনে একসঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের দিকে চোখ ছিল ফুটবলপ্রেমীদের। মায়ামিতে মুখোমুখি হয়েছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল ও হামেস রদ্রিগেজের কলম্বিয়া। আর আটলান্টায় নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে নামে ডিআর কঙ্গো ও উজবেকিস্তান। দুটি ম্যাচের ফল মিলিয়ে বদলে গেছে নকআউট পর্বের সমীকরণ, নির্ধারিত হয়েছে পরবর্তী রাউন্ডের কয়েকটি বড় লড়াইও।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে পর্তুগাল। গ্রুপসেরা হওয়ার সুযোগ থাকলেও কলম্বিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে রানার্সআপ হিসেবেই শেষ করতে হয়েছে ‘সেলেসাও’দের। অন্যদিকে কলম্বিয়া অপরাজিত থেকেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আর ডিআর কঙ্গো ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে প্রথম জয় তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়ে জায়গা করে নিয়েছে রাউন্ড অব ৩২-এ।
মায়ামি গার্ডেন্সের হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত পর্তুগাল-কলম্বিয়া ম্যাচটি ছিল গ্রুপ ‘কে’-এর শীর্ষস্থান নির্ধারণের লড়াই। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে কলম্বিয়া। বলের দখল, আক্রমণ, সুযোগ সৃষ্টি-সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে ছিল দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
ম্যাচে ৫৫ শতাংশ বলের দখল ছিল কলম্বিয়ার। তারা মোট ২৪টি শট নেয়, যার মধ্যে ৬টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে পর্তুগাল ১৩টি শট নিলেও গোলমুখে রাখতে পেরেছে মাত্র দুটি।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো পুরো ম্যাচ খেললেও খুব বেশি কার্যকর হতে পারেননি। কলম্বিয়ার শক্ত রক্ষণ এবং মাঝমাঠের চাপে তিনি বক্সে মাত্র দুবার বল স্পর্শ করার সুযোগ পান। পুরো ম্যাচে মাত্র একটি শট নিতে সক্ষম হন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই ফরোয়ার্ড।
অন্যদিকে হামেস রদ্রিগেজ মাঠে নেমেই কলম্বিয়ার আক্রমণে গতি বাড়ান। লুইস দিয়াজ, জন আরিয়াস এবং জন কর্দোবার সঙ্গে তাঁর সমন্বয় বারবার সমস্যায় ফেলে পর্তুগালের রক্ষণভাগকে।
প্রথমার্ধে ব্রুনো ফার্নান্দেজ গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন। কিন্তু কলম্বিয়ার গোলরক্ষক কামিলো ভার্গাস দুর্দান্ত সেভ করে দলকে রক্ষা করেন। অন্যদিকে পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তাকেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করতে হয়। তিনি মোট ছয়টি সেভ করেন, যা আগের দুই ম্যাচ মিলিয়েও বেশি।
দ্বিতীয়ার্ধে কলম্বিয়া আরও আক্রমণ বাড়ায়। ম্যাচের শেষ দিকে ডেভিনসন সানচেজ বল জালে পাঠালেও ভিএআরের সহায়তায় অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। কয়েক ইঞ্চির ব্যবধান কলম্বিয়াকে জয় থেকে বঞ্চিত করে।

তবে ড্র হলেও বড় ক্ষতি হয়নি কলম্বিয়ার। তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। অন্যদিকে পর্তুগাল এক জয় ও দুই ড্রয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হয়েছে। এই ফলের ফলে রাউন্ড অব ৩২-এ কলম্বিয়ার প্রতিপক্ষ হয়েছে ঘানা। অন্যদিকে রোনালদোদের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা। পর্তুগালকে খেলতে হবে লুকা মদরিচের ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে।
এর অর্থ দাঁড়িয়েছে, লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সম্ভাব্য কোয়ার্টার ফাইনাল লড়াই আর হচ্ছে না। এখন এই দুই মহাতারকার দেখা হওয়ার একমাত্র সম্ভাবনা ফাইনালে। এদিকে আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ইতিহাস লিখেছে ডিআর কঙ্গো। ১৯৭৪ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে ফিরে প্রথম জয় পেয়েছে আফ্রিকার দেশটি।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি কঙ্গোর। মাত্র ১০ মিনিটেই এলদর শোমুরোদভের গোলে এগিয়ে যায় উজবেকিস্তান। কঙ্গোর রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে গোল করেন উজবেক অধিনায়ক।
প্রথমার্ধে বেশ কয়েকবার আক্রমণে উঠলেও গোল পায়নি কঙ্গো। উজবেক গোলরক্ষক আবদুভোহিদ নেমাতভ কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ করেন। একটি গোলও বাতিল হয় আফ্রিকান দলটির। দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। কঙ্গো ক্রমেই চাপ বাড়াতে থাকে। ৬৮ মিনিটে পেনাল্টি পায় তারা। ইয়োয়ানে উইসাকে ফাউল করলে স্পটকিকের সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। নিজেই পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান ব্রেন্টফোর্ড ফরোয়ার্ড।
গোলের পর আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় কঙ্গোর। ৭৮ মিনিটে মেশাক এলিয়ার শট ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বলে গোল করেন ফিস্তন মায়েলে। সেই গোলেই প্রথমবার এগিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আবারও গোল করেন উইসা। দূরপাল্লার শটে তিনি নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন এবং ৩-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন।
গ্রুপ পর্বে ডিআর কঙ্গোর যাত্রাটাও ছিল দারুণ লড়াইয়ের। প্রথম ম্যাচে তারা পর্তুগালকে ১-১ গোলে রুখে দেয়। দ্বিতীয় ম্যাচে কলম্বিয়ার কাছে মাত্র ১-০ গোলে হারে। আর শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানকে হারিয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে সেরা তৃতীয় দল হিসেবে জায়গা করে নেয় নকআউটে।
১৯৭৪ সালে বিশ্বকাপে প্রথম অংশ নিয়ে তিন ম্যাচের সবকটিতেই হেরেছিল কঙ্গো। এমনকি যুগোস্লাভিয়ার কাছে ৯-০ গোলের বড় হারও ছিল তাদের ইতিহাসে। ৫২ বছর পর ফিরে সেই দলই এখন বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে।
গ্রুপ ‘কে’-এর তিনটি দলই শেষ পর্যন্ত নকআউট নিশ্চিত করেছে। কলম্বিয়া গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন, পর্তুগাল রানার্সআপ এবং ডিআর কঙ্গো সেরা তৃতীয় দল হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে শেষ ৩২-এ।
বিশ্বকাপের এই গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার পর সবচেয়ে বড় আলোচনার একটি এখন ডিআর কঙ্গোর রূপকথা, আরেকটি রোনালদোদের কঠিন নকআউট পথ। সামনে ক্রোয়েশিয়া, এরপর সম্ভাব্য স্পেন-পর্তুগালের জন্য চ্যালেঞ্জ কঠিন। অন্যদিকে প্রথমবারের মতো নকআউটে ওঠা কঙ্গো এখন ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে নিজেদের নতুন গল্প লেখার অপেক্ষায়।