শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে মিসরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে মিসরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে এমন এক ম্যাচ উপহার দিল আর্জেন্টিনা ও মিসর, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম নাটকীয় নকআউট লড়াই হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। একসময় ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়া বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা শেষ ১১ মিনিটে তিন গোল করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। এই জয়ে যেমন কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে লিওনেল স্কালোনির দল, তেমনি বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির স্বপ্নযাত্রাও আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে।

অন্যদিকে, অসাধারণ লড়াই করেও শেষ মুহূর্তে ভেঙে যায় মিসরের স্বপ্ন। আফ্রিকার দেশটি ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন ঘটানোর খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং আর্জেন্টিনার তারকাদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের কাছে হার মানতে হয় ফেরাউনদের।

 

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল দারুণ গতিময়। দুই দলের সমর্থকদের উপস্থিতিতে স্টেডিয়ামে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। আর্জেন্টিনার বিপুল সংখ্যক সমর্থকের পাশাপাশি মিসরের হাজারো দর্শকও গ্যালারিতে নিজেদের দলের পক্ষে জোরালো সমর্থন দেন।

 

বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কোচ লিওনেল স্কালোনি আগের ম্যাচের একাদশে তিনটি পরিবর্তন আনেন। ক্লান্তি কাটাতে নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, লিয়ান্দ্রো পারেদেস এবং জুলিয়ান আলভারেজকে শুরুর একাদশে রাখেন তিনি। অন্যদিকে মিসর তাদের সফল একাদশ প্রায় অপরিবর্তিত রেখেই মাঠে নামে। অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহকে ঘিরেই সাজানো হয় আক্রমণের পরিকল্পনা।

 

তবে ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনাকে বিস্মিত করে দেয় মিসর।

 

খেলার মাত্র ১১ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে মারওয়ান আতিয়ার উঁচু ক্রস বক্সের ভেতরে পৌঁছে যায়। ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে উঠে দুর্দান্ত হেডে বল জালে পাঠান ইয়াসের ইব্রাহিম। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের কোনো সুযোগই ছিল না।

 

গোল হজমের পর মুহূর্তেই চাপে পড়ে যায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের গ্যালারিতে থাকা হাজারো আর্জেন্টাইন সমর্থকও কিছু সময়ের জন্য নিশ্চুপ হয়ে যান।

 

তবে গোল খাওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ম্যাচে ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

 

বক্সের ভেতরে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে ফেলে দিলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ভিএআর পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। স্পট কিক নিতে এগিয়ে আসেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

 

কিন্তু বিশ্বকাপে পেনাল্টির দুঃস্বপ্ন যেন আবারও তাড়া করে ফেরে তাকে।

 

মেসির নেওয়া শট ছিল তুলনামূলক ধীরগতির। মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে অসাধারণ দক্ষতায় বলটি ফিরিয়ে দেন।

 

এই সেভের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নতুন এক পরিসংখ্যানের জন্ম দেন মেসি। বিশ্বকাপে নেওয়া আটটি নন-শুটআউট পেনাল্টির মধ্যে এটি ছিল তার চতুর্থ মিস। একই সঙ্গে এক আসরে দুটি পেনাল্টি মিস করা ইতিহাসের প্রথম ফুটবলারও হন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এর আগে গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও স্পট কিক থেকে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি।

 

পেনাল্টি ঠেকানোর পর আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায় মিসরের।

 

অন্যদিকে শোবেইরের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ম্যাচজুড়েই আর্জেন্টিনাকে হতাশ করে।

 

২৫ মিনিটে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের কাছ থেকে নিখুঁত ক্রস পেয়ে প্রায় ফাঁকা গোলমুখে শক্তিশালী হেড করেন তিনি। কিন্তু অবিশ্বাস্য প্রতিক্রিয়ায় আবারও বল ফিরিয়ে দেন শোবেইর। মাত্র কয়েক মিনিট পর জুলিয়ান আলভারেজও একক নৈপুণ্যে গোলের দারুণ সুযোগ তৈরি করেন। ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার নিচু শট কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দেন মিসরের এই গোলরক্ষক।

 

প্রথমার্ধজুড়ে আর্জেন্টিনা বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও আক্রমণের শেষভাগে বারবার ব্যর্থ হচ্ছিল। অন্যদিকে মিসর খুব বেশি সুযোগ তৈরি না করলেও প্রতিটি কাউন্টার অ্যাটাকেই ভয়ংকর হয়ে উঠছিল। বিশেষ করে অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন। তার দ্রুতগতির দৌড় এবং নিখুঁত পাস আর্জেন্টিনার রক্ষণকে বারবার বিপাকে ফেলছিল।

 

মাঝমাঠে লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও এনজো ফার্নান্দেজকে কার্যত ছন্দহীন করে রাখে মিসরের মিডফিল্ড। মারওয়ান আতিয়া ও হামদি ফাতি একের পর এক ট্যাকল করে আর্জেন্টিনার আক্রমণ ভেঙে দেন।

 

প্রথমার্ধের শেষদিকে মেসি কয়েকবার নিচে নেমে বল সংগ্রহ করে আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু লাউতারো মার্টিনেজ ও আলভারেজের সঙ্গে তার বোঝাপড়ায় কিছুটা অসংগতি দেখা যায়। ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটে আর্জেন্টিনা একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করলেও শোবেইরের দুর্দান্ত গোলকিপিং এবং মিসরের সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগের কারণে কোনো গোলের দেখা পায়নি।

 

অন্যদিকে একমাত্র উল্লেখযোগ্য সুযোগ থেকেই গোল তুলে নিয়ে বিরতিতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

 

বিশ্লেষকদের মতে, প্রথমার্ধে মিসরের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ ডিফেন্স এবং গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইরের অসাধারণ পারফরম্যান্স। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা বলের দখল, পাস এবং আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে পিছিয়ে পড়ে।

 

বিরতিতে ড্রেসিংরুমে স্কালোনি খেলোয়াড়দের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন। আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের মুখে তখন স্পষ্ট উদ্বেগের ছাপ। কারণ, আর মাত্র ৪৫ মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যেতে পারত বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের শিরোপা রক্ষার স্বপ্ন এবং লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ অভিযানের গল্প।

 

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধের হতাশা কাটিয়ে দ্রুত সমতায় ফেরার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামে লিওনেল স্কালোনির দল। অন্যদিকে ১-০ গোলের লিড ধরে রেখে কাউন্টার অ্যাটাকে আঘাত হানার কৌশল নেয় মিসর।

 

তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ঘটে ম্যাচের সবচেয়ে বিতর্কিত মুহূর্তগুলোর একটি।

প্রায় ৬০তম মিনিটে নিজেদের অর্ধ থেকে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন মোহাম্মদ সালাহ। মাঝমাঠ পেরিয়ে তিনি নিখুঁত পাস বাড়ান মোস্তফা জিকোর দিকে। দারুণ গতিতে এগিয়ে গিয়ে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে চিপ করে বল জালে পাঠান জিকো। পুরো মিসর শিবির তখন উল্লাসে ফেটে পড়ে।

 

কিন্তু আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

 

ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) গোলটি পর্যালোচনার পর জানায়, আক্রমণের শুরুতে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের ওপর ফাউল হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ভিডিও দেখে রেফারি গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত দেন।

 

এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মিসরের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক দেখা যায়। অনেক সাবেক ফুটবলারও প্রশ্ন তোলেন, এত আগে ঘটে যাওয়া একটি সংঘর্ষের কারণে গোল বাতিল করা কতটা যৌক্তিক ছিল।

 

তবে গোল বাতিল হওয়ার পর যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় আর্জেন্টিনা।

 

গ্যালারিতে থাকা হাজারো আর্জেন্টাইন সমর্থক আবারও দলকে উৎসাহ দিতে শুরু করেন। কিন্তু সেই উচ্ছ্বাস বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

 

মাত্র কয়েক মিনিট পর আবারও ভয়ংকর পাল্টা আক্রমণ চালায় মিসর।

 

মোহাম্মদ সালাহ মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে দ্রুত এগিয়ে যান। ডানদিকে থাকা হাইসেম হাসানকে বল বাড়িয়ে দেন তিনি। হাসানের নিচু ক্রস বক্সে পৌঁছাতেই দৌড়ে এসে এক টাচে বল জালে পাঠান মোস্তফা জিকো।

এবার আর কোনো বিতর্ক হয়নি।

 

স্কোরলাইন হয়ে যায় ২-০।

 

পুরো স্টেডিয়াম তখন স্তব্ধ। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মুখে স্পষ্ট হতাশা। কুলিং ব্রেকের সময় ক্যামেরায় দেখা যায়, লিওনেল মেসি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছেন। সতীর্থদের অনেকেই তখন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যে, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা বিদায়ের এতটা কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এই কঠিন মুহূর্তেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন লিওনেল স্কালোনি।

 

একের পর এক আক্রমণাত্মক পরিবর্তন আনেন তিনি। লাউতারো মার্টিনেজকে আরও সামনে খেলতে বলা হয়। ফুল-ব্যাকদেরও ওপরে উঠে আক্রমণে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। মাঝমাঠে এনজো ফার্নান্দেজকে আরও স্বাধীনভাবে খেলতে দেওয়া হয়।

 

এই পরিবর্তনের ফল মিলতে বেশি সময় লাগেনি।

ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে দুর্দান্ত হেড করেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর বলটি প্রায় ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু বল হাত ছুঁয়ে জালে ঢুকে যায়। এই গোলের পর ম্যাচের চিত্রই বদলে যায়। হঠাৎ করেই আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় আর্জেন্টিনা।

 

পরপর কয়েকটি আক্রমণে মিসরের রক্ষণভাগকে চাপে ফেলে দেয় তারা।

 

৮২তম মিনিটে লিওনেল মেসি মাঝমাঠ থেকে এক অসাধারণ ড্রিবল করে তিনজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে লাউতারো মার্টিনেজকে দারুণ একটি পাস দেন। কিন্তু লাউতারোর হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়। এই সুযোগ নষ্ট হওয়ার পরও আক্রমণের গতি কমায়নি আর্জেন্টিনা।

 

অবশেষে ৮৩তম মিনিটে আসে সেই প্রতীক্ষিত মুহূর্ত।

 

গনসালো মন্তিয়েলের পাস থেকে বক্সের ঠিক বাইরে বল পান লিওনেল মেসি। কোনো সময় নষ্ট না করে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত হাফ-ভলিতে শট নেন তিনি। গোলরক্ষক শোবেইর বল ছুঁয়েও তা আটকাতে পারেননি। বল ক্রসবারে লেগে জালে জড়িয়ে যায়।

 

ম্যাচে ২-২ সমতা ফিরতেই পুরো স্টেডিয়াম যেন বিস্ফোরিত হয় উল্লাসে।

 

এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে টানা নবম ম্যাচে গোল করার বিরল কীর্তি গড়েন মেসি। একই সঙ্গে চলতি বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় আটে। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আবারও এককভাবে শীর্ষে উঠে যান তিনি।

 

গোল করার পর সতীর্থদের দিকে মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচিয়ে উদযাপন করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিসের হতাশা যেন এক মুহূর্তেই মুছে যায়।

 

কিন্তু নাটক তখনও শেষ হয়নি।

 

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হওয়ার পর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আবারও আক্রমণে ওঠে আর্জেন্টিনা।

 

ডান দিক দিয়ে দারুণ দৌড়ে ওঠেন লাউতারো মার্টিনেজ। তিনি নিখুঁত ক্রস বাড়ান বক্সের মাঝখানে। সবার আগে উঠে দুর্দান্ত শক্তিশালী হেড করেন এনজো ফার্নান্দেজ। এবার আর কোনো সুযোগই পাননি মোস্তফা শোবেইর।

 

বল জালে জড়াতেই পুরো আর্জেন্টিনা শিবির আনন্দে ফেটে পড়ে।

 

২-০ থেকে ৩-২।

 

মাত্র ১৩ মিনিটের ব্যবধানে বিশ্বকাপের অন্যতম নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের জন্ম দেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

 

গোল হজমের পর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মিসরের খেলোয়াড়রা। রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন কোচিং স্টাফের একজন সদস্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি।

 

শেষ কয়েক মিনিটে মিসর মরিয়া হয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও আর্জেন্টিনার রক্ষণ আর কোনো সুযোগ দেয়নি।

 

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন লিওনেল মেসি। এরপর সতীর্থদের জড়িয়ে ধরে আনন্দাশ্রুতে ভেঙে পড়েন আটবারের ব্যালন ডি'অর জয়ী এই মহাতারকা। গ্যালারিতে থাকা হাজারো আর্জেন্টাইন সমর্থক তখন 'মেসি, মেসি' ধ্বনিতে মুখর করে তোলেন পুরো স্টেডিয়াম।

 

ম্যাচ শেষে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি কোচ লিওনেল স্কালোনিও।

 

সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, "আমি এখন মাথা তুলে তাকাতেও পারছি না। আমি ভীষণ আবেগপ্রবণ। এই দলটার জন্য আমি গর্বিত। ওরা শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস হারায়নি।"

 

অন্যদিকে মিসর শিবিরে ছিল চরম হতাশা।

 

বিশেষ করে বাতিল হওয়া গোল এবং কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে রেফারির সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে।

 

পরিসংখ্যানেও ছিল আর্জেন্টিনার স্পষ্ট আধিপত্য। বলের দখল, পাস, শট এবং কর্নারে এগিয়ে ছিল স্কালোনির দল। তবে প্রথম ৭০ মিনিটে অসাধারণ গোলকিপিং করে মিসরকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন মোস্তফা শোবেইর। শেষ দিকে আর্জেন্টিনার লাগাতার আক্রমণের সামনে অবশ্য তিনিও আর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি।

 

এই জয়ের ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে কলম্বিয়া অথবা সুইজারল্যান্ড।

 

আর মিসরের জন্য এটি ছিল গর্ব আর আক্ষেপে মিশে থাকা এক বিদায়। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে প্রায় হারিয়েই দিয়েছিল আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের কাছে থেমে যায় তাদের রূপকথার যাত্রা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে নাটকীয়তা, বিতর্ক, আবেগ এবং শেষ মুহূর্তের এক অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের জন্য।


সম্পর্কিত নিউজ